প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৮, ২০২৬, ৪:৫৪ এ.এম
অনলাইন আয়কর রিটার্ন: ১০টি ভুল এড়িয়ে চলার পরামর্শ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের মৌসুম শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী, এখন সারা বছরই অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। বর্তমানে দেশে সোয়া এক কোটির বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন, যার মধ্যে গত বছর প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা অনলাইনে তাঁদের রিটার্ন জমা দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই মনে করেন একবার রিটার্ন জমা দিয়ে দিলে কর কর্মকর্তারা সেটি আর পরীক্ষা বা নিরীক্ষা করেন না। তবে যেকোনো করদাতার নথিপত্র যেকোনো সময় নিরীক্ষার (Audit) আওতায় আসতে পারে। তাই রিটার্ন ফর্মে সঠিক তথ্য প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর রিটার্ন তৈরির সময় করদাতারা সাধারণত ১০টি প্রধান ভুল বেশি করে থাকেন, যা পরবর্তীতে আইনি ও দাপ্তরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে:
**১. স্থাবর সম্পত্তির ভুল বিবরণ:** সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার অধীনে থাকা জমি, ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তির তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ না করায় করদাতার প্রকৃত সম্পদের চিত্র আড়ালে থেকে যায়।
**২. কর রেয়াতে অসঙ্গতি:** বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের ক্ষেত্রে ভুল হিসাব দেখানোর ফলে প্রদেয় করের পরিমাণে গরমিল তৈরি হয়।
**৩. আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় প্রদর্শন:** মোট অর্জিত আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত খরচ দেখালে করদাতার আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
**৪. অস্বাভাবিক নগদ অর্থ প্রদর্শন:** আয় ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনা না করে হাতে অতিরিক্ত পরিমাণ নগদ টাকা দেখানো আইনত ঝুঁকিপূর্ণ।
**৫. স্বর্ণালংকারের অতিরঞ্জিত হিসাব:** আয়ের সঙ্গে কোনো সামঞ্জস্য না রেখে ৫০ ভরি বা তার বেশি পরিমাণে স্বর্ণালংকার রয়েছে বলে দাবি করা—যা কর কর্মকর্তাদের সন্দেহের তালিকায় ফেলতে পারে।
**৬. ঋণের তথ্য গোপন বা ভুল উপস্থাপন:** কাউকে ঋণ দেওয়া, ঋণ নেওয়া কিংবা বিভিন্ন ব্যাংক সঞ্চয়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য বাদ দিলে পরবর্তীতে তা নিয়ে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয়।
**৭. উপহার ও অনুদান এড়িয়ে যাওয়া:** বৈধ উপায়ে প্রাপ্ত উপহার বা অনুদানের তথ্য না দিলে নিজস্ব মোট সম্পদের হিসাব মেলে না।
**৮. সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ গোপন করা:** এফডিআর, ডিপিএস বা সঞ্চয়পত্রের মতো আর্থিক সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হিসাব বাদ দেওয়া অন্যতম একটি সাধারণ ভুল।
**৯. আগের বছরের নিট সম্পদে ভুল:** পূর্ববর্তী বছরের আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত নিট সম্পদের তথ্য চলতি বছরে ভুলভাবে উপস্থাপন করা।
**১০. উৎসে কর কর্তনে গরমিল:** প্রকৃত উৎসে কর্তিত করের তথ্যে ভুল বা অসঙ্গতি থাকা এবং বেশি কর সমন্বয়ের দাবি করা।
একটি সঠিক, আইনসম্মত ও পূর্ণাঙ্গ রিটার্ন ভবিষ্যতে যেকোনো প্রকার প্রশাসনিক হয়রানি থেকে মুক্ত রাখে। তাই দাখিলের আগে আয়, ব্যয়, অর্জিত সম্পদ, দেনা ও কর পরিশোধের সব নথি ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন কর বিশেষজ্ঞরা।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more