প্রধান শিক্ষকহীন কয়রার ৬০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়
Date: 2026-07-28
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৮, ২০২৬, ৪:০৪ এ.এম
প্রধান শিক্ষকহীন কয়রার ৬০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
খুলনার কয়রা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার বুনিয়াদ মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। উপজেলার মোট ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৫টিতেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যালয়ই চলছে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে। এর পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ৪২টি পদও শূন্য রয়েছে। একদিকে শিক্ষকের অভাব, অন্যদিকে প্রশাসনিক টানাফোড়েনে উপজেলার প্রায় ২২ হাজার ৮০৬ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ও একাডেমিক তদারকি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শুধু কয়রা উপজেলাতেই নয়, এই চিত্র পুরো জেলাজুড়েই বিস্তৃত। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খুলনার ১ হাজার ১৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০৫টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ খালি। অর্থাৎ জেলার অর্ধেকেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন অভিভাবকহীন।
সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে। অফিসের কাগজপত্র সংরক্ষণ, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, হিসাব-নিকাশ এবং বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরিতে অধিকাংশ সময় ব্যয় হয়ে যাওয়ায় শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে।
এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত তদারকি হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান দিন দিন নেমে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও জানায়, প্রশাসনিক কাজে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকায় অনেক সময় নির্ধারিত ক্লাসগুলো ঠিকমতো হয় না।
শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের পর উপজেলায় নতুন করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। এ ছাড়া পদোন্নতি ও পদায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনি জটিলতা। রেজিস্টার্ড থেকে সরকারি হওয়া উপজেলার ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদমর্যাদা সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে এখনো বিচারাধীন। মামলার নিষ্পন্ন না হওয়ায় শিক্ষক পদোন্নতি ও নতুন পদায়ন থমকে আছে।
শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়েও জনবল ঘাটতি দেখা দিয়েছে। উপজেলায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার ৫টি পদের ৩টি এবং অফিস সহকারী পদের ৪টির সবই খালি পড়ে আছে। কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার জানান, "২০১৩ সালের পর নতুন করে সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। শূন্য পদগুলোর মধ্যে কেবল ১৬টিতে চলতি দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হয়েছে। মামলা-জটিলতার কারণে পদায়ন আটকে আছে, যা একটি জাতীয় সমস্যা।"
তবে পরিস্থিতি উত্তরণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম। তিনি বলেন, "সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ও অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে এই শূন্য পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে।"
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more