নিজস্ব প্রতিবেদক পটুয়াখালীর বাউফল থানার
পুলিশকে জড়িয়ে প্রকাশিত “মাদকসেবীকে আটকের পর অর্থ লেনদেনে মুক্তি” শিরোনামের একটি
প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে তথ্যগত অসংগতি, যাচাইবিহীন অভিযোগ এবং সাংবাদিকতার নীতিমালা
লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, স্থানীয় সূত্র ও আইনি বিশ্লেষণে
প্রতিবেদনের বেশ কয়েকটি অংশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আটক যুবক ফেরদৌসের
মা দাবি করেন, তার ছেলে কোনো ধরনের মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি জানান, ছেলে বাউফল
সরকারি কলেজের পরিত্যক্ত ভবনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সেখানে
গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি বলেন, “খবর পেয়ে আমি
ঘটনাস্থলে যাই। পরে বাউফল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক বারাকাত আমার জিম্মায় আমার ছেলেকে
ছেড়ে দেন। এখানে কোনো ঘুষ বা অর্থ লেনদেন হয়নি।” ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন
বলে দাবি করা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত নেতা ফিরোজও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমার উপস্থিতিতেই ছেলেটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। সেখানে কোনো
মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি এবং কাউকে মাদক সেবনরত অবস্থায়ও দেখা যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে
তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।” এদিকে একটি অনিবন্ধিত সামাজিক
মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে “একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী”র বরাত দেওয়া হলেও তাদের নাম-পরিচয়
কিংবা বক্তব্যের উৎস উল্লেখ করা হয়নি। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনাস্থলে উল্লেখযোগ্যভাবে
অন্য কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না। গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে,
নাম-পরিচয় গোপন রেখে গুরুতর অভিযোগ উপস্থাপন করলে প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ
হতে পারে। বিশেষ করে কোনো আদালতের রায়, মেডিকেল রিপোর্ট বা মামলার নথি ছাড়া কাউকে
“মাদকসেবী” হিসেবে উল্লেখ করা মানহানিকর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
“অর্থ লেনদেনে মুক্তি” কিংবা “২০ হাজার টাকায় রফাদফা”র মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট
প্রমাণ, সাক্ষ্য বা নথি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আলোচিত প্রতিবেদনে কোনো অডিও-ভিডিও, লিখিত
দলিল বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। আইনজীবীদের মতে, বাংলাদেশের
প্রচলিত আইন ও প্রেস কাউন্সিলের আচরণবিধি অনুযায়ী অভিযোগ ও প্রমাণের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য
বজায় রাখা জরুরি। অন্যথায় বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা মানহানির অভিযোগ তৈরি হতে পারে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা
অনুযায়ী পুলিশ যুক্তিসঙ্গত সন্দেহে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। অন্যদিকে মাদকদ্রব্য
নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক উদ্ধার হলে জব্দ তালিকা, মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনি
প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। তবে আলোচিত ঘটনায় কোনো মামলা, জব্দ তালিকা বা মাদক উদ্ধারের
আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বাউফল থানার উপ-পুলিশ
পরিদর্শক বারাকাত বলেন, “পৌর শহরে সন্ধ্যার পর নিয়মিত টহলে ছিলাম। ওই সময় বাউফল সরকারি
কলেজের একটি অন্ধকার কক্ষে আলো দেখতে পাই। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সেখানে গিয়ে
কয়েকজন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করি। পরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।” বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ
(ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, “একটি মাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়টি আমার নজরে এলে ঘটনাস্থলে
উপস্থিত লোকজন, ছেলের মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলি। পরে অভিযোগটি মিথ্যা বলে প্রতীয়মান
হয়। উপ-পুলিশ পরিদর্শকের মানহানি করতেই এ ধরনের অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে বলে মনে করছি।” গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে,
সংবেদনশীল বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় “অভিযোগ রয়েছে”, “স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব
হয়নি” বা “পুলিশের দাবি”র মতো ভারসাম্যপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা জরুরি। এতে তথ্যের নিরপেক্ষতা
ও পেশাগত দায়িত্বশীলতা বজায় থাকে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সংবাদমাধ্যমের
স্বাধীনতার পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা, প্রমাণনির্ভরতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত
করাও সমান
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more