পটুয়াখালীর দশমিনায় কুপ্রস্তাব প্রত্যাখান করায় , শিক্ষক দম্পতির ওপর হামলা
Date: 2026-09-09
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬, ১:২৫ পি.এম
পটুয়াখালীর দশমিনায় কুপ্রস্তাব প্রত্যাখান করায় , শিক্ষক দম্পতির ওপর হামলা
অ-অ+
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পটুয়াখালীর দশমিনায় এক সহকারী শিক্ষক ও তাঁর স্বামীকে দফায় দফায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি এবং বাসায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষে ভাড়া বাসার সামনে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা এবং ৫ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন ভুক্তভোগী দম্পতি। ঘটনার বিষয়ে দশমিনা থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. মশিউর রহমান ও তাঁর স্ত্রী মধ্য আরজবাগী শিকদারীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমি চৌধুরী। অভিযোগে আদনান শুভসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে মশিউর রহমান জানান, অভিযুক্ত আদনান শুভ তাঁর পূর্বপরিচিত হলেও আচরণে আপত্তি থাকায় তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই তাঁকে ফোনে অশ্লীল ছবি পাঠানোসহ তাঁর স্ত্রীকে অদ্য অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া শুরু হয়। সুমি চৌধুরীর অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত আদনান শুভ কয়েকজন লোক নিয়ে তাঁর কর্মস্থল স্কুলে গিয়ে জীবননাশের হুমকি দেন। এর আগে পাঠানো হুমকির মেসেজ তাঁর মোবাইলে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি জানান। মশিউর রহমানের দাবি, শুভ তাঁর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ায় পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা করা হয়। মামলাটি বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও তা তুলে নেওয়ার জন্য অপরিচিত নম্বর থেকে প্রতিনিয়ত চাপ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শুভসহ কয়েকজন তাদের ভাড়াটিয়া বাসায় গিয়ে শিক্ষিকাকে একা পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করে এবং না দিলে খুন-জখমের হুমকি দেয়। পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মশিউর রহমান বাসার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শুভসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল ধারালো সুইচগিয়ার, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। মশিউর দৌড়ে ভেতরে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন এবং স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে চলে যায়।
তবে অভিযুক্ত আদনান শুভ জানান, তিনি মশিউরের কাছে টাকা পান বলেই চাইতে গিয়েছিলেন এবং হামলার অভিযোগটি সঠিক নয়।
এদিকে দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে মাঠে কাজ চলছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মরিয়ম বেগম শিক্ষক সুমি চৌধুরীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জেলা কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান মৃধা বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more