অনলাইন ডেক্স:
পৃথিবী নিজের অক্ষের চারপাশে একবার ঘুরতে সময় নেয়
২৪ ঘণ্টা। তবে এই সময়কাল স্থির নয়। পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদের প্রভাবে
ধীরে ধীরে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি কমছে, যার ফলে ভবিষ্যতে দিনের দৈর্ঘ্য বর্তমানের তুলনায়
আরও বেড়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞান গবেষকদের মতে, চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণের
কারণে পৃথিবীতে যে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয়, তা শুধু সমুদ্রের পানির ওঠানামাতেই সীমাবদ্ধ
নয়। এই প্রক্রিয়া পৃথিবীর আবর্তন গতির ওপরও প্রভাব ফেলে। জোয়ার-ভাটার সময় বিশাল
জলরাশি সমুদ্রতলে ঘর্ষণের সৃষ্টি করে, যা পৃথিবীর ঘূর্ণনের ওপর এক ধরনের বাধা হিসেবে
কাজ করে।
এই ঘর্ষণের ফলে প্রতিবছর অতি সামান্য হারে পৃথিবীর
ঘূর্ণন গতি হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে শক্তির বিনিময়ের কারণে
চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। যদিও এই পরিবর্তন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে
সরাসরি অনুভূত হয় না, তবে সূক্ষ্ম সময় গণনার ক্ষেত্রে এটি বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ।
পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি সূর্য ও দূরবর্তী নক্ষত্রের
সাপেক্ষে কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা। এই ক্ষুদ্র
সময়গত পার্থক্য সামাল দিতে আধুনিক সময় গণনায় মাঝে মাঝে ‘লিপ সেকেন্ড’ যুক্ত করা
হয়। এ ধরনের হিসাব-নিকাশ আমেরিকার নৌ পর্যবেক্ষণ সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান
নিয়মিত পর্যালোচনা করে থাকে।
বিজ্ঞানীরা জানান, কয়েক কোটি বছর আগে পৃথিবীতে
দিনের দৈর্ঘ্য বর্তমানের তুলনায় অনেক কম ছিল। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে সুদূর ভবিষ্যতে
সময়ের প্রচলিত কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তখন এক দিনের দৈর্ঘ্য আর ২৪ ঘণ্টায়
সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা বেড়ে ২৫ ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে। গবেষকদের মতে, পৃথিবীর এই ধীরগতির পরিবর্তন কোনো
হঠাৎ ঘটনা নয়। এটি মহাবিশ্বের দীর্ঘমেয়াদি ও স্বাভাবিক বিবর্তন প্রক্রিয়ারই অংশ।
তথ্য-বিডিপ্রতিদিন/এম ডিউক