প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ০৭, ২০২৬, ৬:২৭ এ.এম
রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী
শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন
আদালত। রোববার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন
মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে
কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে আনা হয়। শুনানি শেষে আদালত
তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর
একটি বাসায় রামিসা আক্তার নিহত হয়। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের
করেন। তদন্ত শেষে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা
এবং মরদেহ বিকৃত করার অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ফরেনসিক প্রতিবেদন,
ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং অন্যান্য আলামত উপস্থাপন করে। প্রসিকিউশনের
দাবি ছিল, উপস্থাপিত প্রমাণাদি আসামিদের অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট এবং এ ধরনের অপরাধের
ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তিই উপযুক্ত। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অগ্রাধিকার
ভিত্তিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদন জমা, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ,
জেরা এবং যুক্তিতর্ক শেষে মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় চার্জশিটভুক্ত অধিকাংশ
সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। নিহত শিশুর পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, পুলিশ কর্মকর্তা,
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাদের বক্তব্য
এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মূল্যায়ন
করেন। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক আদালতে জানান,
মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের আলামতও শনাক্ত
হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার পর আসামিরা আলামত নষ্টের চেষ্টা করলেও
তদন্তে সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করা সম্ভব হয়। রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত স্বজনরা
সন্তোষ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম
সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more