রাষ্ট্রপতির গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি

Date: 2025-11-26
news-banner

অনলাইন ডেক্স:

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের পর গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্ন অধ্যাদেশে বলা হয়েছে- গণভোটে জনমতের জন্য একটি প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে।

প্রশ্নটি হলো- আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এ বর্ণিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর প্রতি সম্মতি জানান? ( হ্যাঁ/না )

সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদের প্রক্রিয়ায় গঠন।

দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, উচ্চকক্ষে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য থাকবে। সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে।

নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও কমিটি প্রধান নির্বাচনসহ জুলাই সনদের ৩০টি বিষয়ে অর্জিত ঐকমত্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে।

জুলাই সনদের অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্যকর হবে।

নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট-

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রগুলোতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার (জঙ), সহকারী জঙ, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং কর্মকর্তারা গণভোট পরিচালনার দায়িত্বেও থাকবেন।

প্রিজাইডিং অফিসার নির্বাচন ও গণভোট দুটোই পরিচালনা করবেন এবং ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকবেন। প্রয়োজনবোধে তিনি অনিয়মের বিষয়টি জঙ বা সহকারী জঙ-কে জানাতে পারবেন। সহকারী জঙ প্রয়োজন মনে করলে কারণ লিপিবদ্ধ করে যেকোনো কর্মকর্তা সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারবেন।

ভোটার তালিকা ও ভোটগ্রহণ পদ্ধতি-

গণভোটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকাই ব্যবহার করা হবে।

গণভোটের ব্যালট সংসদীয় ব্যালট থেকে পৃথক ও ভিন্ন রঙের হবে। ভোটাররা ব্যালটে মুদ্রিত হ্যাঁ বা না ঘরে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সিলমোহর ব্যবহার করে ভোট দেবেন।

পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও থাকবে এবং এতে সংসদ নির্বাচনের নিয়মই প্রযোজ্য হবে।

অপরাধ ও আচরণবিধি-

অধ্যাদেশে আর বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানে যে কর্মকাণ্ডগুলো নির্বাচন অপরাধ বা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকৃত- গণভোটের ক্ষেত্রেও সেগুলো একইভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে এখতিয়ারসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ এসব অপরাধের বিচার ও লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবে।



সূত্র-বিডিপ্রতিদিন

Leave Your Comments