চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদায় সুদের ১৫ হাজার টাকা আদায় করতে মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মর্জিনা খাতুন নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। অবশেষে টাকা পরিশোধ করেই দাফন করতে বাধ্য হয়েছে পরিবার। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চিৎলা গ্রামে এমনই এক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিৎলা গ্রামের নতুনপাড়া নিয়ামত আলীত ছেল হারুন মিয়া গতকাল শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্ট্রোক জনিত কারণে মারা যান। রোববার আছরের নামাজের পর দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো পরিবার। মরদেহ গোসলের সময় প্রতিবেশী মর্জিনা খাতুন দাবি করেন, হারুনের কাছে সুদের ১৫ হাজার টাকা পাবেন। এসময় তিনি সরাসরি জানিয়ে দেন, ওই টাকা পরিশোধ না করলে লাশ দাফন করতে দেবেন না। এ ঘটনায় শোকাহত পরিবারের সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে মর্জিনা। উপস্থিত মানুষ স্তম্ভিত হয়ে পড়ে এমন ঘটনায়। অবশেষে প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে মর্জিনার টাকা পরিষোধ করেন। দাবিকৃত টাকা নিয়ে মর্জিনা চলে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের জনরোষের মুখে পড়েন। এরই মধ্যে পুরো ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, সৃষ্টি হয় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়। হারুনের চাচাতো ভাই মতিনুর ইসলাম বলেন, আমার চাচাতো ভাই দেড় মাস আগে মর্জিনা খাতুনের নিকট থেকে আটহাজার টাকা ধার নেন। সেই টাকা তিনি ব্যবসার কাজে লাগিয়েছিলেন। রোববার সকালে মরদেহ গোসলের সময় মর্জিনা দাবি করেন ২২ হাজার টাকা সুদের টাকা পাবে। দাফন শেষে এ বিষয়টি মিটমাট করা হবে জানালে তিনি বলেন, টাকা না পেলে মাটি দিতে দেবো না। তিনি বলেন, এসময় আমার গরুটি তার বাড়িতে রেখে আসতে চেয়েছি। পরে টাকা দিয়ে গরু নিয়ে আসব। তিনি তাও শোনেননি। পরে বিভিন্ন ভাবে টাকা সংগ্রহ করে খাটিয়ার উপর রাখলে মর্জিনা টাকা নিয়ে চলে যায়। মানিক আরও বলেন, মর্জিনা একজন সুদকারবারি। গ্রামের মানুষকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলার ভয় দেখায়। তাই কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে চায়না। গ্রামবাসী বলেন, আমরা জীবনে অনেক কিছু দেখেছি, কিন্তু লাশ আটকে সুদের টাকা আদায়ের মতো ঘটনা এই প্রথম দেখলাম। মৃত মানুষের মরদেহ আটকে রেখে টাকা আদায় করা কেবল লোভ নয়, এটা সমাজের জন্য চরম লজ্জার বিষয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মূল টাকা হারুন জীবিত থাকতেই পরিশোধ করেছিলেন। মৃত্যুর পর তার মরদেহ আটকে রেখে সুদের টাকা আদায় করা সমাজের চোখে ঘৃণিত ও জঘন্য কাজ। এ ব্যাপারে দামুড়হুদা থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, এরকম ঘটনা আমার জানা নেই। মৃত ব্যাক্তির পরিবার যদি লিখিত অভিযোগ দেয়। আমরা সেটা আমলে নিয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেব।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more