বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা:
পটুয়াখালী বাউফলের ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্সের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর
ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার পর অভিযুক্ত নার্স শিরিন আক্তার পলাতক রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত অনুমান ২টার সময় এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাউফল পৌরসভার
৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাব্বির শিকদারের স্ত্রী মোসা. ইতি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রুগীর
স্বজনরা রাত দুইটার সময় হাসপাতালে পৌঁছে প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির
পর নৈশ প্রহরী কামাল হোসেন এসে গেট খুলে দিলে তারা হাসপাতালে প্রবেশ করেন। এ সময় হাসপাতালে
কোনো চিকিৎসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।

সাব্বির শিকদার জানান, তিনি নিজেই তার স্ত্রীকে হাসপাতালের ট্রলি (রুগী বহনের গাড়ী) দ্বিতীয় তলায় তুলে একটি
বেডে শুইয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর তার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত নার্স
সেখানে আসেন। তখন চিকিৎসককে অবহিত না করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তারা
বলেন, “এতো ডাকাডাকি করেন কেন? সারাক্ষণ কি আমাদের ডিউটি করতে হবে? যা হওয়ার হবে, সকালে
দেখা যাবে!" অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসককে বিষয়টি না জানিয়েই একজন নার্স কিছু ওষুধ লিখে দেন। সেগুলো রুগীকে প্রয়োগ করা হলেও
অবস্থার কোন পরিবর্তন ঘটেনি। সারারাত প্রসূতি তীব্র যন্ত্রণায় ভোগার পর সকাল ৮টার দিকে
দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক এসে স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন করেন। তবে ততক্ষণে জন্ম নেয় মৃত
কন্যা সন্তান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নার্স শিরিন আক্তার বলেন, রাতে
দায়িত্বে থাকা চিকিৎসককে ফোন দিতে পারেননি, কারণ তার ফোনে ব্যালেন্স ছিল না। চিকিৎসক
না থাকায় তিনি নিজ উদ্যোগে ওষুধ লিখে দিয়েছেন বলেও স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, এসব
ওষুধ চিকিৎসকরাও সাধারণত লিখে থাকেন।
দায়িত্বরত চিকিৎসক ফাতেমা আক্তার জুথি বলেন, “এই
ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাকে কেউ ফোন দেয়নি। সকালে এসে বিষয়টি জানতে পারি।”
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
ডা. আবদুর রউফ জানান, ঘটনার তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে কোনো নার্সের
গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।