নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বালানি সংকট
বা মূল্যবৃদ্ধির সময়ে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়া এখন অনেকের নিত্যদিনের
অভিজ্ঞতা। তবে উদ্বেগজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, তেল নেওয়ার পরপরই অনেক ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল
স্টার্ট দিতে গিয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। এতে শুধু যানবাহনের ক্ষতিই নয়, চালকের জীবনও
মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের
মতে, এ ধরনের দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রথমত, পেট্রোল
অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় তেল নেওয়ার সময় বা তার পরপরই বাইকের চারপাশে জ্বালানির বাষ্প ছড়িয়ে
পড়ে। এই বাষ্প খুব সহজেই আগুন ধরে ফেলতে পারে। দ্বিতীয়ত, মোটরসাইকেল
স্টার্ট দেওয়ার সময় ইঞ্জিনে স্বাভাবিকভাবে একটি ইলেকট্রিক স্পার্ক তৈরি হয়। আশপাশে
যদি পেট্রোলের বাষ্প থাকে, তাহলে এই ছোট স্পার্ক থেকেই আগুন লেগে যেতে পারে। এছাড়া তেল নেওয়ার
সময় ট্যাংক থেকে তেল ছিটকে পড়া বা ঢাকনা ঠিকমতো বন্ধ না করার ঘটনাও ঝুঁকি বাড়ায়। গরম
ইঞ্জিন বা এক্সস্ট পাইপের সংস্পর্শে এলে ছিটকে পড়া তেল দ্রুত আগুনের সূত্রপাত ঘটাতে
পারে। অনেক সময় ট্যাংক অতিরিক্ত ভরে ফেললে তেল উপচে পড়ে বাইকের গায়ে বা মাটিতে জমে
থেকেও দুর্ঘটনার কারণ হয়। এ ধরনের ঝুঁকি
এড়াতে কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তেল নেওয়ার সময় অবশ্যই
ইঞ্জিন বন্ধ রাখতে হবে। তেল নেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে স্টার্ট না দিয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৬০
সেকেন্ড অপেক্ষা করা উচিত, যাতে জ্বালানির বাষ্প ছড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া ট্যাংকের
ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করা, অতিরিক্ত তেল না ভরা এবং বাইকের গায়ে তেল পড়লে তা পরিষ্কার
করে নেওয়া জরুরি। পাম্প এলাকায় মোবাইল ব্যবহার ও ধূমপান থেকেও বিরত থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞরা
আরও বলেন, মোটরসাইকেলের ফুয়েল লাইন, ট্যাংক ও ইনজেকশন বা কার্বুরেটর সিস্টেম নিয়মিত
পরীক্ষা করা প্রয়োজন, যাতে কোনো লিকেজ না থাকে। সংশ্লিষ্টদের
মতে, সামান্য অসাবধানতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে
এ ধরনের আগুন লাগার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more