বাউফল সংবাদদাতা : পটুয়াখালী জেলার কৃতী সন্তান,
মহান ভাষা আন্দোলনের সাহসী সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফ
হোসেন স্মরণে শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৪টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচার কচি-কাঁচা মেলা মিলনায়তনে
এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। “চেতনায় সৈয়দ আশরাফ” ব্যানারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন
করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা,
সাংস্কৃতিক কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরন উপস্থিত ছিলেন। সৈয়দ আশরাফ হোসেন ছিলেন
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের ধূলিয়া গ্রামের সন্তান। ১৯২৯ সালের ২৩
ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করা এই মহান দেশপ্রেমিক ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে
যুক্ত হন। তিনি বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.কম সম্পন্ন করেন। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে
তিনি ছিলেন সম্মুখসারির একজন সাহসী কর্মী। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে
বের হওয়া ঐতিহাসিক মিছিলে তিনি দ্বিতীয় সারির অন্যতম নেতৃত্বদানকারী হিসেবে অংশ নেন।
মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পৌঁছালে পুলিশের গুলিতে আবদুস সালামসহ অনেকে আহত
হন। পরে শহীদ সালামের রক্তমাখা জামা তার বড় ভাই ডা. সৈয়দ ফজলুল হক সৈয়দ আশরাফের
হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে সেই রক্তমাখা
জামা নিয়ে তিনি পটুয়াখালীতে ফিরে আসেন এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি শহরের বড় মসজিদ সংলগ্ন
মাঠ ও জুবিলী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসমাবেশে তা প্রদর্শন করেন। শহীদের রক্তমাখা
পোশাক দেখে পটুয়াখালীর ছাত্র-জনতা আন্দোলনে ফেটে পড়ে এবং ভাষা আন্দোলনের ঢেউ পুরো
অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ন্যাশনাল
আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫
সালের নির্বাচনে তিনি পটুয়াখালী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের ভয়াবহ
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন এলাকায়
নিজ হাতে মৃতদের দাফন কার্য সম্পাদন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধেও সৈয়দ
আশরাফ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পটুয়াখালী অঞ্চলে সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম
সংগঠক হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেন। তার সাহসী ভূমিকার কারণে তৎকালীন পাকিস্তান
সরকার জীবিত বা মৃত অবস্থায় তাকে ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। ২০০৮ সালের ৩ মে এই ভাষা
সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করেন। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ধূলিয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া
নদীর তীরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,
ধূলিয়া ইউনিয়ন রক্ষায় নির্মিত প্রায় ৭২০ কোটি টাকার নদী রক্ষা ব্লক প্রকল্প বাস্তবায়নের
পেছনে সৈয়দ আশরাফ হোসেনের স্মৃতি ও সমাধিস্থল সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছিল।
তবে বর্তমানে তার সমাধি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে বলে এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more