বিশ্ব ডেস্ক:
স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের ফুয়ের্তেভেন্তুরা দ্বীপে
অবস্থিত টিন্ডায়া পর্বতকে ঘিরে বহুদিন ধরেই নানা রহস্যময় গল্প প্রচলিত। মাত্র ৪০০ মিটার
উঁচু এই পর্বতকে পৃথিবীর অন্যতম রহস্যঘেরা স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আরোহণ কঠোরভাবে
নিষিদ্ধ হওয়ায় এবং পাহাড়ের ভেতর-বাহিরে অস্বাভাবিক কিছু বৈশিষ্ট্য থাকায় অনেকেই মনে
করেন-এটি নাকি ভিনগ্রহীদের ঘাঁটি হতে পারে।
ভ্রমণকারী জোশুয়া ম্যাককার্টনি পর্বতটির রহস্য অনুসন্ধানে
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং বেশ কিছু অদ্ভুত তথ্য প্রকাশ করেন, যা বিশ্বব্যাপী আলোচনার
জন্ম দেয়। আগ্নেয়গিরির পাথর ও মরুভূমি পরিবেষ্টিত টিন্ডায়া দেখতে কাটা শঙ্কুর মতো।
তবে এর আসল রহস্য লুকিয়ে আছে পর্বতের ভেতরে ও চূড়ায়।
১৯৯০ সালে পর্বতের চূড়ায় আবিষ্কৃত হয় পাথরে খোদাই করা ৩৭৯টি
পায়ের ছাপ। প্রতিটি ছাপই ছিল বাঁ পায়ের এবং প্রায় একই মাপ-২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার।
বিস্ময়ের আরও কারণ, সব পায়ের ছাপই মুখ করে ছিল পর্বতের পশ্চিম দিকে। কার্বন ডেটিংয়ে
দেখা যায়, এগুলোর বয়স দুই হাজার বছর।
গবেষকরা জানান, পর্বতের চৌম্বকক্ষেত্র স্বাভাবিকের তুলনায়
১০ গুণ বেশি, ফলে এখানে কম্পাস কাজ করে না-যা রহস্যকে আরও ঘনীভূত করে। স্থানীয়দের অনেকে
টিন্ডায়াকে ‘পবিত্র পর্বত’ মনে করেন এবং বিশ্বাস করেন এটিতে বিশেষ জাদুকরী শক্তি রয়েছে।
তাদের দাবি, রাতে পর্বতচূড়া থেকে অদ্ভুত আলো দেখা যায়। এ থেকেই জন্ম নিয়েছে ভিনগ্রহীদের
ঘাঁটি থাকার গুজব-এমনকি কারও মতে, তাদের নাকি মাত্র একটি পা!
১৯৯৫ সালে টিন্ডায়া ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত
হয়। পায়ের ছাপের প্রত্ণতাত্ত্বিক গুরুত্ব রক্ষা করতে পর্বতটিতে আরোহণ পুরোপুরি নিষিদ্ধ
করে স্পেন সরকার; কেবল বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণের অনুমতি রয়েছে।
শিল্পী এডুয়ার্ডো চিলিদার পরিকল্পনায় পাহাড়ে একটি বিশাল
কৃত্রিম গুহা খননের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিবেশবাদীদের বিরোধিতায় সেটি এখনো বাস্তবায়িত
হয়নি।
রহস্য, ইতিহাস ও লোককথার মিশেলে টিন্ডায়া আজও বিশ্বের অন্যতম
অমীমাংসিত রহস্যবহ পাহাড় হিসেবে পরিচিত এটি।