ইসলাম ডেক্স:
ভিন্নমত মানবজীবনের স্বাভাবিক ও প্রাচীন
বাস্তবতা উল্লেখ করে প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার এবং ক্যামব্রিজ ইসলামিক কলেজের ডিন বলেছেন,
মতের অমিল কোনো সংকট নয়; বরং মানব-সচেতনতার স্বাভাবিক দিক। ভিন্নমতকে গ্রহণ করার ক্ষমতাই
সমাজ ও মানুষের পরিণত চিন্তার পরিচয়।
এক বিশ্লেষণধর্মী লেখায় তিনি বলেন,
ভিন্নমত থাকা বিপজ্জনক নয়; বিপদ লুকিয়ে থাকে সেই আচরণে, যা আমরা ভিন্নমত দেখলে গ্রহণ
করি। তার ভাষায়, মানুষ প্রায়ই নিজের মতকে সত্যের চূড়ান্ত রূপ মনে করে এবং ‘এটা আমার
মত’-থেকে ‘এটা তোমাকেও মানতে হবে’-এই রূপান্তরই সম্পর্ক ও সমাজে সংকীর্ণতা সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, সমাজ পুরুষের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে
প্রশংসা করে, কিন্তু নারী যখন একই সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তাকে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করা হয়।
এটি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির একরূপতা ও পক্ষপাতের উদাহরণ। মতের ভিন্নতা থাকলেই তা বিদ্রোহ
বা হুমকি হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং এটি মানবিক সংলাপকে সমৃদ্ধ করে।
ভিন্নমতকে দমন করার প্রবণতা সম্পর্কে
স্কলার বলেন, যেখানে একরূপতার উন্মাদনা প্রবল, সেখানে স্বাধীন চিন্তা হারিয়ে যায়, সমাজ
ভঙ্গুর হয়ে ওঠে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হলে মানুষ পূর্ণ মানুষ থাকে না; হয়ে
যায় নিঃশব্দ ছায়া।
তার মতে, এমন প্রবণতা শুধু রাজনীতি
বা সমাজেই নয়, পরিবার ও ব্যক্তিগত সম্পর্কেও নীরবে ক্ষয় সৃষ্টি করে। সম্পর্ক ভাঙে কোলাহলে
নয়; ভাঙে নীরব অবক্ষয়ে।
তিনি আরও বলেন, ভিন্নমতের সঙ্গে বাঁচতে
শেখার জন্য প্রয়োজন মনের উদারতা ও বৌদ্ধিক বিনয়। সত্য কারো একার দখলে নেই-এ কথা স্বীকার
করা মানুষের চিন্তাকে বিস্তৃত করে।
“তোমার মত আমার মতো না হলেও, তাতে আমি
ছোট হয়ে যাই না-এই মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, ভিন্নমতকে স্থান
দেওয়ার ক্ষমতাই মানবিক ও সামাজিক পরিণতির পরিচয়।
সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, ভিন্নমতে
একমত হওয়া দুর্বলতা নয়; বরং মানবসভ্যতার বহুরূপী, সদা-পরিবর্তনশীল যাত্রাকে স্বীকৃতি
দেওয়ার এক পরিণত প্রকাশ।
তথ্য-বিডি প্রতিদিন