‘আপনি কি সেই মাল’ মন্তব্যের পর পাথরঘাটা থানার ওসি প্রত্যাহার
Date: 2026-06-21
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২১, ২০২৬, ১১:৩৭ এ.এম
‘আপনি কি সেই মাল’ মন্তব্যের পর পাথরঘাটা থানার ওসি প্রত্যাহার
অ-অ+
বরগুনা সংবাদাতা : নারী বাদীকে ‘আপনি কি সেই মাল’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা বরগুনার পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ও পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) এফ. এম. ফয়সাল স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, প্রশাসনিক কারণে ওসি মো. এনামুল হককে পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বরগুনায় সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী ওসি এনামুল হককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে পাথরঘাটার এক নারী স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে গিয়ে থানায় হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, মামলা গ্রহণে টালবাহানা করা হয় এবং ন্যায়বিচার পেতে গিয়ে তাকে অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, একপর্যায়ে ওসি তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার।’ এ মন্তব্যে তিনি অপমানিত ও বিব্রত বোধ করেন বলে জানান। ঘটনার সময় সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন। মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, তার উপস্থিতিতেই ওসি বাদীকে উদ্দেশ করে ওই মন্তব্য করেছিলেন। এদিকে স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, ওসি এনামুল হক সরকারি মোবাইল নম্বরে অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ করতেন না। ফলে জরুরি প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হন। এছাড়া আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণে অনীহা, নারী বাদীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং এক নারীকে ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে ওসি এনামুল হককে প্রত্যাহারের বিষয়ে অফিস আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে কেবল ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more