অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে নতুন মোড়
Date: 2026-06-21
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২১, ২০২৬, ১:৩৮ পি.এম
অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে নতুন মোড়
অ-অ+
অনলাইন
ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতাকে কেন্দ্র করে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র মতবিরোধ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আপসের বিরোধিতা করে দেশটির কট্টরপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো তাদের অবস্থান আরও কঠোর করছে। মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ওপর এই চুক্তির কারণে কট্টরপন্থীদের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। কট্টরপন্থীদের প্রধান আশঙ্কা—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সমঝোতা ভবিষ্যতে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখার মতো বিষয়গুলো এই আলোচনায় কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি চুক্তি বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ওপর ছেড়ে দিলেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় তিনি জানান, নীতিগতভাবে শুরুতে এই সমঝোতা স্মারকে তাঁর আপত্তি ছিল। তবে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ও প্রেসিডেন্টের বিশেষ সুপারিশের ভিত্তিতে তিনি এর অনুমোদন দিয়েছেন। এই অনুমোদনের ক্ষেত্রে খামেনির একটি কঠোর শর্ত ছিল—জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত তিন-চতুর্থাংশ সদস্যকে এই চুক্তির পক্ষে থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, পরিষদের অধিকাংশ সদস্যই শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব সমর্থন করেছেন। তবে নিরাপত্তা পরিষদ স্পষ্ট করেছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস নয়, বরং একটি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান। চুক্তির যেকোনো শর্ত ভঙ্গ হলে ইরান তাৎক্ষণিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রেখে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই সমঝোতাকে দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এটি পারস্পরিক সম্মান ও শান্তির ভিত্তিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যা ইরানের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রেখেই সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও এই চুক্তিকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, "যুদ্ধকালীন অর্জনগুলোকে আলোচনার টেবিলে সফলভাবে তুলে আনা সম্ভব হয়েছে।" তবে তিনি মনে করিয়ে দেন যে সামনে এখনও দীর্ঘ পথ বাকি এবং দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় এই চুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। পাকিস্তান ও কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সহযোগিতায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারকটি সই হয়, যা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা আসছে ইসরায়েলের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে। ইসরায়েলি নেতাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও সক্ষমতা কমাতে এই ধরনের সমঝোতা যথেষ্ট নয়, বরং আরও কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। অভ্যন্তরীণ বিতর্ক এবং আন্তর্জাতিক চাপ—উভয় সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে এই অন্তর্বর্তী চুক্তি কতটুকু স্থায়ী হয় এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী শান্তিতে কী ভূমিকা রাখে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more