প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১২, ২০২৬, ৩:২২ পি.এম
আর্জেন্টিনা কিভাবে ইসরাইলের বন্ধু হল?
অ-অ+
বিশেষ প্রতিবেদন । বিডিফেস :
( এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং উন্মুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে)
আর্জেন্টিনা বিশ্বব্যাপী ফুটবলের দেশ হিসেবে জনপ্রিয়। কিন্তু বিশ্ব রাজনীতিতে আর্জেন্টিনার একটি বিতর্কিত দিক হলো, দেশটির দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আর্জেন্টিনা একদিকে লাতিন আমেরিকার অন্যতম বড় ইহুদি জনগোষ্ঠীর দেশ, অন্যদিকে বনাম ব্রিটেন ফকল্যান্ড যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা, পশ্চিমা জোটের সঙ্গে আর্জেন্টিনার সম্পর্ক এবং বর্তমান আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্টের জায়নবাদী মতাদর্শ মিলিয়ে দুই দেশ ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের সাথে আর্জেন্টিনার এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণ কী, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বিডিফেসের এই প্রতিবেদনে।
১৯ শতকের শেষের দিকে আর্জেন্টিনায় ইহুদি জনগোষ্ঠীর বসতি গড়ে ওঠে। তখন ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপ থেকে অনেক ইহুদি পরিবার নিরাপদ জীবন ও নতুন সুযোগের খোঁজে আর্জেন্টিনায় আসতে শুরু করে। কেউ শহরে ব্যবসা ও পেশাজীবনে যুক্ত হয়, আবার কেউ কেউ গ্রামীণ এলাকায় কৃষিভিত্তিক বসতি গড়ে তোলে। এসব বসতি থেকেই পরবর্তীতে 'জিউইশ গাউচো' বা 'ইহুদি কাউবয়' নামে একটি বিশেষ পরিচিতি তৈরি হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনায় ইহুদি কমিউনিটি বড় হতে থাকে। লাতিন আমেরিকার মধ্যে আর্জেন্টিনাতেই সবচেয়ে বড় ইহুদি জনগোষ্ঠী বাস করে। তাদের বড় অংশ বসবাস করে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে। শহরটিতে ইহুদি স্কুল, সিনেগগ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সামাজিক সংগঠন এবং কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে। ব্যবসা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পেশাজীবনে তারা ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। আর্জেন্টিনার ইহুদি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং পারিবারিক সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। অনেক পরিবারের আত্মীয়-স্বজন ইসরায়েলে বসবাস করে। ইহুদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমেও ইসরায়েলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় থাকে, আর এই বড় ইহুদি কমিউনিটি আর্জেন্টিনা ও ইসরায়েলের সম্পর্কের একটি সামাজিক ভিত্তি তৈরি করেছে।
১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দখলকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা এবং ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর ব্রিটেন সামরিক অভিযান চালিয়ে দ্বীপগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে। এই যুদ্ধের সময় আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিকভাবে চাপে পড়েছিল এবং সামরিক সরঞ্জামের জন্য বিভিন্ন দেশের কাছে সাহায্য চাচ্ছিল। সেই সময় ইসরায়েল গোপনে আর্জেন্টিনাকে সামরিক সহায়তা দিয়েছিল বলে পরবর্তীতে ব্রিটিশ নথিতে উঠে এসেছে। নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল আর্জেন্টিনাকে যুদ্ধবিমান, অস্ত্র, যন্ত্রাংশ এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল। কিন্তু সেগুলো সরাসরি আর্জেন্টিনায় না গিয়ে পেরুর মাধ্যমে পৌঁছানো হয়। এর মধ্যে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার সতর্ক ব্যবস্থা এবং স্কাইহক যুদ্ধবিমানের মতো বড় জ্বালানি ট্যাঙ্কও ছিল বলে ধারণা করা হয়। এসব জ্বালানি ট্যাঙ্ক আর্জেন্টিনার যুদ্ধবিমানকে ফকল্যান্ড অঞ্চলের আকাশে বেশি সময় অপারেশন চালাতে সাহায্য করেছিল। ইসরায়েল এর আগেও আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তার কাছে 'নেশের' বা 'ডেগার' যুদ্ধবিমান বিক্রি করেছিল। এগুলো ছিল ফরাসি মিরাজ ফাইভ নকশার ইসরায়েলি সংস্করণের যুদ্ধবিমান। ফকল্যান্ড যুদ্ধের সময় এই ধরনের অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ আর্জেন্টিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এই বিষয়টি জানার পর ইসরায়েলকে থামানোর চেষ্টা করলেও ইসরায়েল আর্জেন্টিনার সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য চালিয়ে যায়। ইসরায়েল কত বড় অকৃতজ্ঞ দেশ যে ব্রিটিশদের সহায়তায় তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, গোপনে তারা আর্জেন্টিনাকে সেই ব্রিটেনের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করতে সহায়তা করেছে। সেই সামরিক সহায়তার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল লাতিন আমেরিকায় ইসরায়েলের অস্ত্রের বাজার তৈরি করা। আর্জেন্টিনা হলো ইসরায়েলি অস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। ফলে ফকল্যান্ড যুদ্ধ আর্জেন্টিনা ও ইসরায়েলের সম্পর্ককে সামরিক ও কৌশলগত পর্যায়েও অনেক গভীর করেছিল।
১৯৯০-এর দশকে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে দুটি বড় হামলা দেশটির রাজনীতিকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ১৯৯২ সালে ইসরায়েলি দূতাবাসে প্রথম হামলা হয়। বিস্ফোরণে দূতাবাস ভবন, পাশের একটি গির্জা এবং আশেপাশের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই হামলায় ইসরায়েলি নাগরিকের পাশাপাশি আর্জেন্টাইন নাগরিকরাও নিহত হয়। এর দুই বছর পর, ১৯৯৪ সালের ১৮ জুলাই বুয়েনস আইরেসে 'আমিয়া' (অগওঅ) ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে আরেকটি ভয়াবহ বোমা হামলা হয়। এটি আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে পরিচিত। হামলায় বহু মানুষ নিহত এবং আহত হয়েছিলেন। শুধু ইহুদি কমিউনিটিই নয়, পুরো আর্জেন্টাইন সমাজ এই ঘটনার ধাক্কা অনুভব করেছিল। এই দুই হামলার পর আর্জেন্টিনায় ইহুদি প্রতিষ্ঠান, ইসরায়েলি স্থাপনা এবং বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নতুনভাবে আলোচনায় আসে। ফলে বুয়েনস আইরেসের ইহুদি স্কুল, সিনেগগ, কমিউনিটি সেন্টার এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যে দক্ষিণ আমেরিকায়ও এভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, আর্জেন্টিনার মানুষ তা সরাসরি দেখতে পেয়েছিল। আর্জেন্টিনার বিচার বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই হামলাগুলোর সঙ্গে ইরান এবং হিজবুল্লাহর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে। কিন্তু ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এরপর থেকে আর্জেন্টিনার নিরাপত্তানীতিত ইসরায়েলের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। তবে ইসরায়েলের 'ফলস ফ্ল্যাগ' অপারেশনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এর মানে হলো, ইসরায়েল নিজেরাই নিজেদের উপর হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত না হলেও ইসরায়েলের ক্ষেত্রে এটি একটি ওপেন সিক্রেট বিষয়। যখন কোথাও ইসরায়েল বিশেষ গুরুত্ব পেতে চায়, তখন সেখানে ইহুদিদের উপর সাজানো হামলা করে ইসরায়েল ভিকটিম সাজার চেষ্টা করে। সেই ঘটনার পর থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সন্ত্রাস-বিরোধী অভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বুয়েনস আইরেসের হামলাগুলো আর্জেন্টিনা-ইসরায়েল সম্পর্ককে শুধু কূটনীতির পরিসর পেরিয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা রাজনীতির অংশে পরিণত করেছে।
আর্জেন্টিনা অতীতে ইসরায়েলপন্থী ছিল না। এমনকি ইসরায়েলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার কোনো কূটনৈতিক সম্পর্কও ছিল না। কিন্তু ফিলিস্তিন প্রশ্নে আগের সরকারগুলো অনেক সময় আলাদা অবস্থান নিয়েছে। ২০১০ সালে আর্জেন্টিনা ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছিল। তখন আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রনীতি তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা, অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রের দাবিকেও স্বীকৃতি দেওয়া। এই দুই অবস্থান পাশাপাশি চলেছে। কিন্তু ২০২৩ সালে হ্যাভিয়ের মাইলিন ক্ষমতায় আসার পর এই অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের সদস্যপদ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ওঠে। অধিকাংশ দেশ সেই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও আর্জেন্টিনা তখন ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ অল্প কয়েকটি দেশের সঙ্গে এর বিপক্ষেও ভোট দেয়। লাতিন আমেরিকার অনেক বামপন্থী সরকার যেখানে ইসরায়েলের সমালোচনা করেছে, আর্জেন্টিনা সেখানে উল্টো পথে হেঁটেছে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট নিজেকে পাশ্চাত্যপন্থী, সমাজতন্ত্র-বিরোধী এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। এই কারণে তার ইসরায়েল প্রীতি আর্জেন্টিনার ভেতরেও আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি নিজেকে একজন কট্টর জায়নবাদী হিসেবে প্রকাশ করেন। মাইলিনের ইসরায়েল প্রীতি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি ইসরায়েল সফর করেছেন। সেখানে তিনি জেরুজালেমের ওয়েস্টার্ন ওয়ালে গিয়েছেন এবং ইহুদি ধর্মের প্রতি নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মাইলিন আরও ঘোষণা দিয়েছেন, আর্জেন্টিনার দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তখন এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ ইসরায়েল জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা করছিল। এর পাশাপাশি মাইলিনের সরকার হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেও ঘোষণা দিয়েছে।
আর্জেন্টিনা ও ইসরায়েলের সম্পর্ক শুধু রাজনীতি, নিরাপত্তা বা সামরিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, অর্থনীতি ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইসরায়েলের দক্ষতা আর্জেন্টিনার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আর্জেন্টিনা নিজেও একটি কৃষিপ্রধান দেশ। দেশটির অর্থনীতিতে কৃষি, খাদ্য উৎপাদন এবং রপ্তানির বিশাল বড় ভূমিকা রয়েছে। ইসরায়েল মরুভূমির মতো কঠিন পরিবেশেও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফল হয়েছে। কম পানি দিয়ে বেশি ফসল উৎপাদন, ড্রিপ সেচ, পানি সংরক্ষণ, বীজ উন্নয়ন এবং কৃষি গবেষণায় দেশটি অনেক এগিয়ে গেছে। ফলে আর্জেন্টিনার জন্য এসব প্রযুক্তির ব্যবহার ইসরায়েলের সাথে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করেছে। নিরাপত্তা প্রযুক্তিতেও ইসরায়েলের অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার আগ্রহ তৈরি করেছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক বন্ধুত্বেই আটকে নেই, বরং বাস্তব প্রয়োজন, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপরও দাঁড়িয়ে আছে।
বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের অনেক মানুষ আর্জেন্টিনাকে খুব ভালোবাসে। বিশ্বকাপিলেই আর্জেন্টিনার পতাকা টানানো হয়। মেসির জার্সি পরে রাস্তায় মিছিল করা হয়, রাত জেগে আর্জেন্টিনার খেলা দেখা হয়। কিন্তু সেই আর্জেন্টিনার বর্তমান সরকার প্রকাশ্যে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে। হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে, এমনকি ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পর্যন্ত দেয়নি। গাজায় দীর্ঘ দুই বছর একটানা বোমা হামলা, শিশুসহ লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু কিংবা ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষের ঘরবাড়ি হারানো আর্জেন্টিনাকে ভাবায়নি। বিপরীতে ইসরায়েলের সামান্য কিছু প্রাণহানি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি আর্জেন্টিনা অনেক বেশি সহমর্মী। যে দেশকে মানুষ ফুটবলের ভালোবাসা দিয়ে আপন করে নিয়েছে, সেই দেশের সরকার যখন ইসরায়েলের মতো অমানবিক দেশকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, তখন সেই দেশকে সমর্থন করা নৈতিক দিক থেকে কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
অনেকেই বলতে পারেন, খেলার সাথে রাজনীতি টেনে আনার দরকার কী? কিন্তু বাস্তবতা হলো, খেলা আর রাজনীতি কোনো আলাদা বিষয় নয়। ফুটবল বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বহু স্বৈরাশাসক তাদের রাজনৈতিক 'সফট পাওয়ার' তৈরির অংশ হিসেবে ফুটবলকে ব্যবহার করেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান ফুটবল দলকে নিয়ে মার্কিন সরকারের রাজনীতিও এর ব্যতিক্রম নয়। তাছাড়া এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হাতে ইসরায়েলের পতাকা দেখা যাওয়ার ঘটনাও এই আলোচনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। এটি শুধুই সমর্থকদের প্রতি ব্যক্তিগত আচরণ নয়, বরং ইসরায়েলের মতো সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের প্রতি আর্জেন্টিনার নৈতিক সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more