বাউফল
(পটুয়াখালী) সংবাদদাতা:
পটুয়াখালীর
বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী মিছিলে বিএনপি
কর্মীদের হামলার অভিযোগ পাওয়া উঠেছে।। এ ঘটনায় ইউনিয়ন আমির ও সেক্রেটারিসহ নারী কর্মীসহ
অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (৮ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে খানকার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী
ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারিয়া বাজার
এলাকায় দাড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে জামায়াতের নারী কর্মীরা প্রচারণা চালালে ধানের
শীষ সমর্থিত বিএনপি কর্মীরা তাদের বাঁধা দেয়। পরবর্তীতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী
৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরঅডেল খানকা বাজার থেকে দাড়িপাল্লার সমর্থনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের একটি
মিছিল শুরু হলে বিএনপি কর্মী সোহেল রাড়ি (৩৫), আনোয়ার (৪০), মোহাম্মদ (৪৫), আবু কালাম
(৪৫), নাইম (৩০) ও ফিরোজ (৩৫)-এর নেতৃত্বে প্রায় দেড় শতাধিক লোক রামদা, চাইনিজ কুড়াল,
রডসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মিছিলে পেছন দিক থেকে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি
কুপিয়ে ও পিটিয়ে জামায়াত কর্মীদের আহত করা হয়। একপর্যায়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হলে
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে।
হামলায়
আহতদের মধ্যে দাঁড়িপেলার সমর্থিত জামাল মেধা (২২), মিয়া জান, আবুল হাশেম (৪৪), জুয়েল
(৩৪), নয়ন (১৭), সজীব মাঝি (১৭), শাহজালাল (২০), আলামিন (২৫), সাইফুল (৩৫), সুজন (৩২),
রোজিনা (৩২), তানজিলা (২৬), আশরাফুল (৪০), নূর মাদবার (৩৮), আমিনুল (৩২), ইব্রাহিম
(৩০), সালাম (৩০), সোহেল (১৮), আব্দুস সুবহান (৪০), আনিসুর রহমান (৫৫), শহিদুল (২৮)
ও সোহরাব (২৭) রয়েছেন। তাদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ
ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন মৃধা নামে একজন বিএনপি কর্মীও আহত হন।
উপজেলা
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ: জানান, আহত ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি
করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জামাল মৃধা নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে
দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার
প্রতিবাদে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের হাজারো নেতাকর্মী বিভিন্ন দিক থেকে বাউফল শহরে জড়ো
হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার
ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে
বাউফল থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিও তোলা হয়।
বাউফল
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে
পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।