বাউফলে নদীতীর কেটে মাটি লুট: বিলীন হচ্ছে কবরস্থান, আতঙ্কে গ্রামবাসী

Date: 2026-05-14
news-banner

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের চাবুয়া গ্রামে নদীতীর কেটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে নদীসংলগ্ন জমি ও কবরস্থানের পাশ থেকে মাটি কেটে নেয়ায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে পূর্বপুরুষদের কবরও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নদীর পাড় ধসে পড়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, পাশের দুটি ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এসব মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীতীরের বড় বড় গাছ কেটে ফেলায় ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাচ্চু নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল লোক এক্সকাভেটর ও শ্রমিক ব্যবহার করে রাতে মাটি কেটে নিয়ে যায়। উত্তোলিত মাটি পার্শ্ববর্তী ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া কাটা গাছের কাঠ ভাটার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রামবাসীরা জানান, নদীতীরের গাছপালা কেটে ফেলায় মাটি ধরে রাখার স্বাভাবিক শক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় তীব্র স্রোতে প্রতিনিয়ত পাড় ভেঙে পড়ছে। এতে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের কবরও রক্ষা পেল না। ইতোমধ্যে কয়েকটি কবর নদীতে চলে গেছে। আমরা এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে এর আগেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলেও জানান স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে সংশ্লিষ্টরা এলাকা ত্যাগ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীতীরবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন দেশের প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
বাংলাদেশের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী নদী, খাল, কৃষিজমি কিংবা জনবসতির ক্ষতি হয় এমনভাবে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনের দায়ে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ইটভাটায় ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। কাঠ পুড়িয়ে ইটভাটা পরিচালনাও বেআইনি।
পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, অবৈধ মাটি কাটা ও অপরিকল্পিত ইটভাটার কারণে নদীতীরবর্তী জনপদ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে চাবুয়া গ্রামের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

Leave Your Comments