বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান হিরনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি
ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন
করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত ইউপি সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে
ইউপি সদস্যরা বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর এ আবেদন করা হয়।
লিখিত অভিযোগে ইউপি ১১জন
ইউপি সদস্যরা উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান হিরন দীর্ঘদিন ধরে
ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভা ও নির্বাচিত সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন
উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করে আসছেন। এতে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম
ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিষদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি নিয়মিত
অফিস সময়ে ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিত থেকে ব্যক্তিগত ব্যবসা ও কাজে অধিক সময় ব্যয় করছেন।
ফলে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
ইউপি সদস্যদের লিখিত অভিযোগে
ভিজিডি কার্ড প্রদানের নামে অসহায় নারী ও দরিদ্র জনগণের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ, জন্মনিবন্ধন
সনদ প্রদান ও সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং মাতৃত্বকালীন
ভাতা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও
তোলা হয়েছে।
এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব
খাতের অর্থের সঠিক হিসাব প্রদান না করা, আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় না রাখা এবং
নিয়মিত মাসিক সভা আহ্বান না করে পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের
অভিযোগ রয়েছে। এতে নির্বাচিত ইউপি সদস্যদের অবমূল্যায়ন ও মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে বলেও
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ইউপি সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন,
সদস্যদের অবহিত না করেই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কমিটিতে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের
প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
আবেদনে বলা হয়, এসব অনিয়ম ও
দুর্নীতির কারণে ইউনিয়নবাসীর মধ্যে তীব্র জনদুর্ভোগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ন্যায়বিচার,
স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান হিরনের বিরুদ্ধে
নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে তাকে দ্রুত কাছিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অপসারণসহ প্রয়োজনীয়
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ইউপি সদস্যরা।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর জেলেদের
মানবিক সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণের সময় প্রতিজেলের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগে
মাহামুদুল হাসান হিরনের বিরুদ্ধে দেশের প্রথম সারির একাধিক জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত
হয়। ওই ঘটনার পর তৎকালীন ইউএনও আমিনুল ইসলাম তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
সালেহ আহমেদ বলেন, ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে জেলা
প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।