চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, তিন সপ্তাহে ছাড়াল গত ছয় মাসের আক্রান্তের সংখ্যা
Date: 2026-07-22
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২২, ২০২৬, ৪:৩০ এ.এম
চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, তিন সপ্তাহে ছাড়াল গত ছয় মাসের আক্রান্তের সংখ্যা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
মৌসুমের শুরুতেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দ্রুত অবনতি হচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতির। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যে পরিমাণ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তার চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে কেবল গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে গত জুন মাস পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ২৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। অথচ এর ঠিক পরের তিন সপ্তাহ অর্থাৎ জুলাই মাসের প্রথম ২১ দিনেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০৫ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০৩ জনে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত দুজনে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ আসছে নগরের বাইরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে। জুলাই মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে আক্রান্ত হওয়া ৩০৫ জনের মধ্যে ১৮৪ জনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা, আর বাকি ১২১ জন চট্টগ্রাম মহানগরীর। উপজেলাগুলোর মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে সীতাকুণ্ডে, যেখানে এখন পর্যন্ত ৫৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া ৩০ জনের অধিক রোগী নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কর্ণফুলী উপজেলা। চিকিৎসকদের বড় একটি অংশন বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৯৫ শতাংশই নগরীর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এবারের ডেঙ্গুর উপসর্গ ও বৈশিষ্ট্যে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অতীতে ডেঙ্গু মানেই উচ্চমাত্রার জ্বর ও শরীরে লাল র্যাশ বা ফুসকুড়ি হিসেবে চিহ্নিত হলেও, এবার অনেক রোগীর ক্ষেত্রে উচ্চ জ্বর থাকছে না। এর পরিবর্তে অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতা, ঘন ঘন বমি, তীব্র পেটব্যথা, ডায়রিয়া এবং লিভার ও কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে ছুটে আসছেন। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা হলো, সামান্য জ্বর বা শারীরিক অস্বস্তিকেও সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে অবহেলা করা মারাত্মক ভুল হতে পারে। সামান্য সন্দেহ হলেই দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
গত জুনে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালিত এক জরিপে চট্টগ্রাম নগরের প্রতি ১০০টি বাড়ির মধ্যে অন্তত ২৭টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার তথ্য সামনে এসেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষার অবিরাম বৃষ্টি এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি মশার বংশবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম নগরের আটটি ওয়ার্ডকে এডিস মশার 'অতি ঝুঁকিপূর্ণ' বা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর কাট্টলী, পাঁচলাইশ, জালালাবাদ, পশ্চিম ও দক্ষিণ বাকলিয়া, দক্ষিণ হালিশহর, পাথরঘাটা এবং আন্দরকিল্লা এলাকা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হটস্পটগুলোতে নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর জন্য বিশেষ টিম কাজ করছে এবং ফগিংয়ের পাশাপাশি লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ বাসাবাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ এবং সর্বোচ্চ সচেতনতা অবলম্বন করলেই কেবল ডেঙ্গুর এই ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more