ঢাবিতে কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীদের মোমবাতি প্রজ্বালন ও প্রতিবাদী স্মরণসভা
Date: 2026-07-18
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১:৪১ এ.এম
ঢাবিতে কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীদের মোমবাতি প্রজ্বালন ও প্রতিবাদী স্মরণসভা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
জুলাই শুধু একটি আন্দোলনের নাম নয়, এটি অন্যায়, বৈষম্য এবং স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিরোধের চিরন্তন প্রতীক। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রসমাজের এই প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আবেগঘন স্মরণসভায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের ওপর তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের বর্বরোচিত হামলার স্মৃতি স্মরণে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 'জুলাইয়ের মৈত্রী হল: মোমবাতি প্রজ্বালন ও সমবেত কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান' শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হল সংসদ। এদিন সন্ধ্যায় হলের ছাত্রীরা মোমবাতি হাতে নিয়ে প্রাঙ্গণে সমবেত হন এবং শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর সমবেত কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান ও বৈষম্যবিরোধী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো হল এলাকা।
স্মরণসভায় হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাফিয়া রেহনুমা বলেন, “হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই জুলাইকে চিরকাল অম্লান রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই গণহত্যা ও নিপীড়নের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কণ্ঠ সোচ্চার রাখতে হবে। এটি আমাদের কাছে শহীদদের রেখে যাওয়া পবিত্র আমানত।”
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নিশিতা জামান বলেন, “জুলাই আমাদের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এটি সব ধরনের অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ইস্পাতকঠিন ঐক্যের অনন্য দৃষ্টান্ত। এই ধরণের আয়োজনের মধ্য দিয়ে জুলাই প্রতিবছর আমাদের মাঝে সাহস, ত্যাগ এবং ন্যায়বিচারের মূর্ত প্রতীক হিসেবে ফিরে আসবে।”
অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক এবং হলের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) তানজিনা তাম্মিম প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “গত বছরগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ জুলাই তারিখটি ‘জুলাই নারী দিবস’ হিসেবে পালিত হলেও এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক ও নির্ভীক সংগ্রামী ইতিহাসকে অস্বীকার করার শামিল।”
শিক্ষার্থীরা জানান, দমন-পীড়ন ও পুলিশি বুলেটের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোতে কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা যেভাবে মোমবাতি প্রজ্বালন ও স্লোগানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন, সেই একই চেতনা বুকে ধারণ করে আগামীর যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা রাজপথে থাকবেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more