গাইবান্ধা সংবাদদাতা:
স্বল্প খরচে বেশি মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা থাকায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় কলা চাষ দিন দিন লাভজনক হয়ে উঠছে কৃষকদের নিকট। অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের কারণে এ অঞ্চলে কলা চাষ এখন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
চাষিরা জানান, কলার চারা রোপণের পর ২৪ মাসে তিনবার ফলন পাওয়া যায়। চলতি মৌসুমে ফলন আগের বছরের তুলনায় অনেক ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে সোনালী হাসি। উপজেলার বসতবাড়ির পেছন, পুকুরের পাড়, পতিত জমি কিংবা খামারবাড়ির আশপাশে এখন সবুজে ঘেরা কলাবাগান। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ফলনও বেড়েছে বহুগুণে, আর তার সাথে এসেছে পরিবারের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা।
উপজেলার সাপমারা, গুমানীগঞ্জ, কামারদহ, দরবস্ত ও পৌরসভাসহ বেশ কিছু ইউনিয়নে বেশি পরিমাণে কলা আবাদ হয়েছে। বর্তমানে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৩৬৫ হেক্টর জমিতে কলার চাষ চলছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
এ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি চাষ হয় সাগর, সবরি, অনুপম, চাম্পা প্রজাতির কলা। এর মধ্যে সবরি, মেহের সাগর ও অনুপম জাতের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ, ধান, পাট বা আখের মতো প্রচলিত ফসলের তুলনায় কলা চাষে খরচ ও শ্রম দুই-ই কম, আর বাজারে বিক্রির ঝামেলাও তুলনামূলক কম। ফলে অল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় নতুন অনেক কৃষকও ঝুঁকছেন কলা চাষে।
কলা চাষিরা আরও বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন আশানুরূপ হয়েছে। বাজারদরও আগের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ায় তারা ভালো লাভের আশায় উচ্ছ্বসিত।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, বানিজ্যিকভাবে কলা চাষ কৃষকদের আয়ের নতুন দিগন্ত শুরু হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে চাষিদের নতুন প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। উপজেলায় এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে, চাষিরাও ভালো দাম পেয়েছেন। এ বছর নতুন করে কলা চাষে এগিয়ে আসছেন অনেকে।