গ্যাস-সংকটে ঢাকাবাসী: দ্বিগুণ খরচে মাটির চুলা ও বিদ্যুৎ
Date: 2026-08-25
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ২:৫৩ এ.এম
গ্যাস-সংকটে ঢাকাবাসী: দ্বিগুণ খরচে মাটির চুলা ও বিদ্যুৎ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
রাজধানী ঢাকায় তীব্র রূপ নিয়েছে রান্নার গ্যাসের সংকট। শেওড়াপাড়া, মিরপুর, কাজীপাড়া ও কালশীসহ নগরীর বিশাল অঞ্চলের বাসিন্দারা মাসের পর মাস পাইপলাইনে রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে নিরুপায় হয়ে চড়া দামে সিলিন্ডার গ্যাস কিংবা অতিরিক্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক (ইন্ডাকশন) চুলা কিনে বিকল্প উপায়ে রান্নার কাজ চালাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সার্বিক খরচ বেড়ে গেছে অর্ধেকেরও বেশি। নিয়মানুযায়ী প্রতি মাসে সরকারি গ্যাসের বিল পরিশোধ করার পরও বিকল্প উপায়ে রান্নার ব্যবস্থা করতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক টানাপোড়েন।
সংকট কাটাতে বাসিন্দারা বহুমুখী ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। শেওড়াপাড়ার বাসিন্দাদের অনেকেই পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা দামে ইন্ডাকশন চুলা কিনেছেন। কিন্তু রান্নার কাজে এই বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ বিল এক লাফেই দ্বিগুণ ছাড়িয়ে যাচ্ছে; আগে যেখানে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকার কাছাকাছি বিদ্যুৎ বিল আসত, এখন তা প্রায় ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি ফুটানো পানির সুবিধা না থাকায় পানির এটিএম বুথ কিংবা কেনা পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা থেকে পরিবারগুলোতে ফুড পয়জনিং ও পানিবাহিত নানা রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে।
জাতীয় পর্যায়ে বিগত প্রায় নয় বছর ধরে প্রাকৃতিক গ্যাসের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় মূলত ২০১৮ সাল থেকে আমদানিকৃত এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) দিয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সম্প্রতি মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনালে কারিগরি জটিলতা ও পর্যাপ্ত এলএনজি কার্গোর সরবরাহ না থাকায় সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজধানীর গৃহস্থালি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে।
রাজধানীর কালশী এলাকার অনেক নিম্নবিত্ত পরিবার বাসাবাড়ির পাশে ইট দিয়ে তৈরি মাটির চুলায় ভেজা কাঠ বা লাকড়ি দিয়ে কোনোমতে রান্নার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বর্ষাকালে লাকড়ি না জ্বলা এবং অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে সেই প্রচেষ্টাও চরম দুর্ভোগে পরিণত হচ্ছে। অনেক বাড়িতে বাসাভাড়া দেওয়ার শর্ত হিসেবে লাকড়ি ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় তারা নিরুপায় হয়ে বাইরে থেকে প্রস্তুত করা খাবার কিনে খাচ্ছেন। ব্যাচেলর ও মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বুয়া রাখা সত্ত্বেও গ্যাস না থাকায় দৈনিক আয়ের বড় অংশ রেস্তোরাঁর খাবারে ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের স্বাস্থ্য সমস্যা ও পরিপাকতন্ত্রজনিত রোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এলএনজিবাহী নতুন কার্গো এলে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে, তবে গ্যাস-সংকটের স্থায়ী সমাধান পেতে আরও সময় লেগে যেতে পারে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের বাড়তি খরচ বহন করতে গিয়ে পিষ্ট হচ্ছেন রাজধানীর অগণিত সাধারণ নাগরিক।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more