হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই: ভেস্তে গেল যুদ্ধবিরতি
Date: 2026-07-09
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ০৯, ২০২৬, ৫:১২ এ.এম
হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই: ভেস্তে গেল যুদ্ধবিরতি
অ-অ+
অনলাইন
ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের আধিপত্য খর্ব করার লক্ষ্য নিয়ে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একযোগে বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযান পরিচালনা করে।
বুধবার মধ্যরাতের এই আকস্মিক হামলায় সিস্তান-বালুচেস্তান প্রদেশের ইরানশাহর ও চাবাহার শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে চালানো এই হামলায় ইরানশাহর বিমানবন্দরের ফ্লাইট ফ্যাসিলিটি ভবন ও আবহাওয়া স্টেশন ধসে পড়ে। সেখানে কর্তব্যরত খালেদ কাদেরী নামে এক দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন।
আক্রমণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল বন্দরনগরী চাবাহার এবং এর পার্শ্ববর্তী কোনারাক শহর। মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো থেকে এই এলাকায় অন্তত ১০টি বোমা ফেলা হয়। হামলায় চাবাহারের ইমাম আলী হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রধান তিনটি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন কেটে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই চাবাহার শহরের অর্ধেক এলাকা সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে যায়। পরবর্তীতে আংশিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা সম্ভব হলেও পরিস্থিতি এখনো থমথমে। স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে, চাবাহারে অবস্থিত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একটি নৌঘাঁটিও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপকে ‘বিনা উসকানিতে আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান। গত মাসেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই হামলার মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন সেই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে সরাসরি লঙ্ঘন করল। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি এক কঠোর বার্তায় হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই নগ্ন আগ্রাসনের জন্য শত্রু পক্ষ এবং তাদের regional (আঞ্চলিক) দোসরদের চরম মূল্য চোকাতে হবে এবং তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
মূলত এই হামলাটি হঠাৎ করে ঘটেনি। এর ঠিক আগেই আইআরজিসি দাবি করেছিল যে, এর আগে আমেরিকার করা হামলার প্রতিশোধ নিতে তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সফল পাল্টা আঘাত হেনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলার জবাব দিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নতুন বিমান হামলার নির্দেশ দেন। ফলে দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা পুরোপুরি ভেস্তে গিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত এবং ভয়াবহ সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। তথ্য:
নয়া দিগন্ত/বিডিফেস মেহেদী
হাসান
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more