প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ০৯, ২০২৬, ১১:০৪ এ.এম
স্বর্ণের বাজারে আবার পতন: ভরিতে কমল ৩৩২৪ টাকা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের এই ঘন ঘন পরিবর্তন বর্তমানে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের জন্যই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম হ্রাস পাওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে তারা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। এই ঘোষণার ফলে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামেও আনুপাতিক হারে পতন ঘটেছে। বাজুস পরিষ্কারভাবে নির্দেশনা দিয়েছে যে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের ভেতরেই যেহেতু ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত, তাই কোনো জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানই গ্রাহকের কাছ থেকে নতুন করে কোনো ভ্যাট আদায় করতে পারবে না। তবে অলঙ্কারের শৈল্পিক কারুকাজ বা ডিজাইনের ভিত্তিতে মজুরি চার্জ করার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়মে বহাল থাকবে।
এই মূল্য সমন্বয়ের পেছনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েক মাসে দেশের স্বর্ণের বাজারে বেশ অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাত্র তিন দিন আগের হিসেবে (৬ জুলাই) যেখানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা, সেখানে আজ তা কমে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকায় নেমে এসেছে। এই ঘন ঘন দাম পরিবর্তনের তীব্রতা লক্ষ্য করা যায় চলতি বছরের পরিসংখ্যানে—মাত্র ছয় মাসের কিছু বেশি সময়ে মোট ৮৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এই ৮৮ বারের মধ্যে ৪৩ বার দাম বেড়েছে, ৪৪ বার কমেছে এবং একবার শুধু ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের ব্যাপক উঠানামা এবং ভূ-রাজনৈতিক নানা সংকট (যেমন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা) দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এছাড়া, ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতা এবং আমদানি পর্যায়ে শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতাও স্বর্ণের বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। গত ২০২৫ সালে পুরো বছরে ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তনের রেকর্ড তৈরি হয়েছিল, যা স্পষ্ট করে দেয় যে বর্তমান সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদাও বাড়ছে এবং বিশ্ববাজারের গতির সাথে পাল্লা দিয়ে দেশীয় জুয়েলারি খাতকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাজুসের এই নিয়মিত সমন্বয় মূলত বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করার একটি কৌশল, যাতে স্থানীয় বাজার আন্তর্জাতিক মূল্যের তুলনায় খুব বেশি পিছিয়ে না থাকে বা অস্বাভাবিক বেড়ে না যায়। তবে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বারবার দামের এই পরিবর্তন এবং উচ্চমূল্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more