হঠাৎ করেই প্রতি লিটারে জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় পটুয়াখালীর বাউফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সোজা প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন, কৃষিকাজ ও নৌযানসহ বিভিন্ন সেবা খাতে। ফলে যাতায়াত খরচ বাড়ার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।
চাপ বাড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি মাশুল গুনতে হয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে। কর্মসংস্থান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের দৈনিক খরচ এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় বাজারে আসা প্রতিটি পণ্যের শেষ দাম গিয়ে ঠেকছে ভোক্তাদের পকেটেই।
বাউফলের অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলকারী বাস, মাহিন্দ্রা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকরা জানান, জ্বালানির দাম বাড়লেও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, যা তাদের দৈনন্দিন আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় যাত্রী জাহিদ গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সংসারের খরচ এমনিতেই সীমার বাইরে। এর মধ্যে এক লাফে লিটারে ২০ টাকা তেলের দাম বাড়ানো হলো। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে। সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।”
কৃষি উৎপাদন ও বাজারদরে বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা
বাউফলের কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে সেচ পাম্প চালানো, জমি চাষ ও উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছাতে ডিজেলের ব্যবহার অপরিহার্য। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় চলতি মৌসুমে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ অনেকটা বেড়ে যাবে।
অন্যান্য জেলা ও উপজেলা থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকেই চাল, ডাল, সবজি, মাছ ও মাংসের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
বাজার মনিটরিং ও প্রশাসনের নজরদারির দাবি
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে যেন পরিবহন খাতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা না হয় এবং নিত্যপণ্যের বাজারে কোনো কৃত্রিম সংকট বা অহেতুক দাম বাড়ানো না হয়—সেজন্য প্রশাসনকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।
তাদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু যানবাহনের তেলের দামেই সীমাবদ্ধ থাকে না; উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই সাধারণ মানুষের কাঁধ থেকে অতিরিক্ত চাপের বোঝা কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more