প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৯, ২০২৬, ৩:৩৪ এ.এম
জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, প্রাণহানি ১৩
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কুমামোতো শহর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই বিপর্যয়ে অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের বাঁচাতে উদ্ধারকারীদের চালানো এই প্রচেষ্টাকে ‘সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই’ বলে অভিহিত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানী টোকিওতে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেকে এখনো উদ্ধারের প্রতীক্ষায় রয়েছেন। এটি মূলত সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই। আমরা মাঠপর্যায়ে সর্বাত্মক সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছি, যাতে বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা যায়।”
ভূমিকম্পের তীব্রতায় কুমামোতোর কাশিমা শহরে অবস্থিত ‘এইয়ন মল’ নামক একটি বিশাল বিপণিবিতান আংশিক ধসে পড়ে। প্রায় ২০০টি দোকানের এই মলটিতে প্রথম ভূকম্পনের ১ ঘণ্টা পর এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ফলে এই বিপর্যয় ঘটেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটির একপাশ পুরো উড়ে যায়।
বুধবার ভোরে ধসে পড়া মলটির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ২০ বছর বয়সী দুই নারী মারা যান। ঘটনার সময় ওই বিপণিবিতানে বেশ কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ২০ থেকে ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানার চিমনি ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন গুরুতর আহত এবং ৭ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি উকি শহরের হাসপাতালগুলো মারাত্মক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। একটি হাসপাতালের প্রশাসনিক প্রধান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি কোনো ‘ফিল্ড হাসপাতাল’ বা যুদ্ধক্ষেত্রের অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রের রূপ নিয়েছে। অন্য একটি স্থানীয় হাসপাতাল ভূমিকম্পের পর ৩ জন গুরুতর আহতসহ ৮৬ জন রোগীকে প্রাথমিক সেবা দেওয়ার পর শয্যা ও চিকিৎসাসংকটের কারণে নতুন রোগী ভর্তি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া ভূকম্পনের সময় দ্রুতগতির ট্রেনে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী আঘাত পেয়েছেন বলে জানিয়েছে রেল পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো।
কুমামোতো অঞ্চল জুড়ে ৩৬ হাজারেরও বেশি পরিবার বর্তমানে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও বিদ্যুৎহীনতার মাঝেই এ অঞ্চলে তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা আশ্রয়কেন্দ্র ও খোলা আকাশের নিচে থাকা বাসিন্দাদের মাঝে হিট স্ট্রোকের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্থানীয় প্রশাসন কুমামোতো ও আশেপাশের প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার অধিবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কুমামোতো শহরটি মধ্য কিউশু অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নগরী, যেখানে প্রায় ৭ লাখ মানুষের বাস।
জাপানের আবহাওয়া বিভাগ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহজুড়ে সেখানে আরও শক্তিশালী পরাঘাত (আফটারশক) এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more