প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ০৩, ২০২৬, ১২:২০ পি.এম
ককরোচ আন্দোলন: মোদির ক্ষমা ও বিতর্কের নতুন ঝড়
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
ভারতে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব 'ককরোচ আন্দোলন' দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গত মে মাসে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ভাগ্য নির্ধারণী একটি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেলে পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এর জেরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তরুণ সমাজ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ব্যানারে আন্দোলনে নামে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আন্দোলনকারীদের ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করলে বিক্ষোভকারীরা সেটিকে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে নিজেদের নাম দেয় ‘ককরোচ’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিম, ব্যঙ্গচিত্র ও অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে আন্দোলন দ্রুত রাজধানী নয়াদিল্লিসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনের তীব্রতার মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির তোয়াক্কা না করে বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে শত শত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এমনকি রাজধানী দিল্লিতে সংসদের দিকে পদযাত্রার সময় শিক্ষার্থীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, ছররা গুলি ও লাঠিপেটা চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। আন্দোলনকারী নারী শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস (Doxxing), গালিগালাজ এবং হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও ওঠে শাসকদলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্দোলনে কটূক্তি করা শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি আন্দোলনকারীদের ‘পথভ্রষ্ট সন্তান’ আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেন যে শাস্তি নয়, বরং তাদের সঠিক পথ দেখানোই সরকারের দায়িত্ব। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থানকে কৌশলগত দাবি করে তীব্র সমালোচনা করেছেন আন্দোলনকারীরা। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাধিকা কুমার অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বাস্তবে চলা পুলিশি সহিংসতা নিয়ে নীরব থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে 'ভুক্তভোগী' হিসেবে তুলে ধরছেন এবং নৈতিকতার দোহাই দিয়ে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন।
আন্দোলন দমাতে ডিজিটাল মাধ্যমেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে ‘বেআইনি’ কন্টেন্ট সরিয়ে নেওয়ার নিয়ম চালুর পর, মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও পোস্টের অভিযোগে হায়দরাবাদে ‘মেটা ইন্ডিয়া’-র প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে, আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের দায় নিয়ে বিরোধী দলগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছে এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন। ফলে শিক্ষা সংস্কারের এই দাবি এখন ভারতের কেন্দ্র সরকারের জন্য এক বড় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more