খাগড়াছড়ি হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে রোগীদের দুর্ভোগ
Date: 2026-08-03
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ০৩, ২০২৬, ৭:০৮ এ.এম
খাগড়াছড়ি হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে রোগীদের দুর্ভোগ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
দীর্ঘ ৮ বছরেও শেষ হয়নি খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার নতুন ভবনের নির্মাণকাজ। দীর্ঘ ৮ বছরেও শেষ হয়নি খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার নতুন ভবনের নির্মাণকাজ। ফলে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ-তিনগুণ রোগীর চাপে নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে ১০০ শয্যার পুরোনো ভবনটিতে। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা; ঠাঁই মিলছে হাসপাতালের বারান্দা ও চলাচলের রাস্তার মেঝেতে।
পৌর সদরে অবস্থিত ১০০ শয্যার এই হাসপাতালটির ওপর খাগড়াছড়ির ৯টি ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ-তিনগুণ রোগীর চাপে নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে ১০০ শয্যার পুরোনো ভবনটিতে। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা; ঠাঁই মিলছে হাসপাতালের বারান্দা ও চলাচলের রাস্তার মেঝেতে।
পৌর সদরে অবস্থিত ১০০ শয্যার এই হাসপাতালটির ওপর খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রাঙামাটির লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার বাসিন্দারাও নির্ভরশীল। প্রতিদিন এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন গড়ে ৬০০ থেকে ২,০০০ রোগী। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১০০ শয্যার বিপরীতে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২ ৩০ জন রোগী। পানছড়ি থেকে আসা অতুল চাকমা জানান, বেড খালি না থাকায় বাধ্য হয়ে বৃদ্ধ বাবাকে বারান্দার মেঝেতে রেখে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান দীঘিনালার সালমা আক্তার ও গাইনি ওয়ার্ডে আসা মনোয়ারা বেগম। মানুষের যাতায়াতের স্থানে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর ও অস্বাস্থ্যকর বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
২০১৮ সালে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫০ শয্যার বহুতল এই ভবনের নির্মাণকাজের কার্যাদেশ পায় স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেলিম এন্টারপ্রাইজ। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে ২০২৪ সালের মধ্যে হস্তান্তরের কথা থাকলেও, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটি প্রস্তুত হয়নি। কাজের ধীরগতির বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মাদ সেলিম। তবে খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুশান্ত কুমার দে জানান, কাজের অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ। কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে মৌখিক নির্দেশনাসহ সম্প্রতি লিখিত নোটিশও পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন রতন খীসা এবং আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) রিপল বাপ্পী জানান, নতুন ভবনটি চালু না হওয়ায় আইসিইউ, কিডনি ডায়ালাইসিস, উন্নত প্যাথলজি ও সিসিইউর মতো অতি জরুরি সেবাগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি ভবন হস্তান্তর না হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগও আটকে রয়েছে। ৯ তলাবিশিষ্ট এই অত্যাধুনিক ভবনে জরুরি বিভাগ, আধুনিক রোগ নির্ণয় কেন্দ্র (সিটি স্ক্যান, এমআরআই, এক্স-রে), ডায়ালাইসিস ইউনিট, আইসোলেশন ও ১০ শয্যার আইসিইউসহ মোট ২৫০টি শয্যা এবং কেবিন সুবিধা থাকার কথা রয়েছে। জনস্বার্থে দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ভবন হস্তান্তরের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more