প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ০৩, ২০২৬, ৯:০৫ এ.এম
সুপারিশেই সীমাবদ্ধ পুলিশ সংস্কার
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
গণ-অভ্যুত্থানের পর যে পুলিশ সংস্কার ছিল অন্যতম প্রধান জনদাবি, রাজনৈতিক সমঝোতার অভাব, কাঠামোগত জটিলতা এবং সদিচ্ছার ঘাটতিতে তা আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলন দমনে সারাদেশে পুলিশ ৩ লাখ ৫ হাজার রাউন্ডের বেশি মারণাস্ত্রের গুলি ছোড়ে, যার মধ্যে শুধু ঢাকাতেই ব্যবহৃত হয় ৯৫ হাজার রাউন্ডের বেশি গুলি।
নির্বিচার এই বলপ্রয়োগের ফলে ৮০০-র বেশি মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ছররা গুলিতে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ চোখে গুরুতর আঘাত পান এবং ৫৫০ জনেরও বেশি মানুষ চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারান। এই চরম রক্তক্ষয়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার স্বাধীন 'পুলিশ সংস্কার কমিশন' গঠন করে বলপ্রয়োগের নীতি প্রণয়ন, তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা শাখা পৃথকীকরণ এবং স্বাধীন 'পুলিশ কমিশন' গঠনের সুপারিশ করে। তবে পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব না পাওয়া এবং জারি করা অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হয়ে বাতিল হয়ে যাওয়ায় সংস্কার উদ্যোগটি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। প্রকৃতপক্ষে ১৯৮২ সাল থেকে শুরু করে ২০০৫-২০১৪ সালে ইউএনডিপির সহায়তায় পরিচালিত 'পুলিশ রিফর্ম প্রোগ্রাম' (পিআরপি)-সহ বহুবার সংস্কারের সুপারিশ করা হলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাবে তা কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল আধুনিক সরঞ্জাম বা প্রশিক্ষণ নয়, বরং মানবাধিকার নিশ্চিত করা, বাহিনীকে দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত করা এবং ক্ষমতাবানের বদলে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল পুলিশকে একটি প্রকৃত জনবান্ধব সংস্থায় রূপান্তর করা সম্ভব।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more