কাশ্মীরে নির্বাচন ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ৩০ জনের মৃত্যুর দাবি
Date: 2026-07-30
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ৩০, ২০২৬, ১১:০১ এ.এম
কাশ্মীরে নির্বাচন ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ৩০ জনের মৃত্যুর দাবি
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত কাশ্মীরি সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) দাবি অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের আগে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রাওয়ালাকোটে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ওই অঞ্চলে ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় হতাহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মূলত নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে নির্বাচন কমিশন এবার আজাদ কাশ্মীরের নির্বাচনকে তিনটি ধাপে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর অংশ হিসেবে গত সোমবার মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বর জেলার ১৩টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) নয়টি আসনে এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) চারটি আসনে জয়লাভ করেছে। পরবর্তী ধাপে আগামী ২ এবং ১০ আগস্ট বাকি আসনগুলোতে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবারের নির্বাচন সম্পূর্ণ বয়কট করেছে। দলটির অভিযোগ, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতির পরিকল্পনা রয়েছে। গত জুনে আঞ্চলিক সরকার প্রধান বিক্ষোভকারী সংগঠন জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই পুরো অঞ্চলে তীব্র অসন্তোষ ও রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যার রেশ এখনো কাটেনি। ফলস্বরূপ, অঞ্চলটিতে ব্যাংকিং সেবা, সড়ক যোগাযোগ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সোমবারের এই সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দাবি, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভারতের মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোগসাজশ রয়েছে, যদিও ভারত বরাবরের মতো এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলগুলোর বয়কট এবং বিতর্কিত নির্বাচনী ফলাফলের জেরে সৃষ্ট এই গভীর সংকট আজাদ কাশ্মীরের স্থিতিশীলতাকে আরও বেশি অনিশ্চিত করে তুলেছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more