ঝড়ে ঘর ভেঙে পড়লেও লেখাপড়া থামায়নি কক্সবাজারের তিন কন্যা
Date: 2026-07-30
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ৩০, ২০২৬, ১০:৪৪ এ.এম
ঝড়ে ঘর ভেঙে পড়লেও লেখাপড়া থামায়নি কক্সবাজারের তিন কন্যা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম (৪০) জন্ম থেকেই এক চোখে দেখতে পান না। তাঁর স্বামী দিল মোহাম্মদ (৬৭) পাঁচ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়েছেন। সম্প্রতি টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তাঁদের মাটির ঘরের তিন পাশের দেয়াল ধসে পড়েছে। এখন ছেঁড়া পলিথিন দিয়ে ঘেরা সেই ভাঙা ঘরেই চার মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এই দম্পতি।
৪ জুলাই থেকে টানা ১০ দিনের বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রামুর ১১টি ইউনিয়নের ২৩টি গ্রাম প্লাবিত হয় এবং অন্তত ৭০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। পাহাড়সংলগ্ন সরকারি খাসজমিতে নির্মিত রোকেয়া বেগমের ঘরও সেই সময় ধসে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরের তিন পাশের মাটির দেয়াল ভেঙে পড়ে আছে। ছেঁড়া পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। ভেতরে ভেজা কাপড়, বই-খাতা ও কিছু আসবাবপত্র গাদাগাদি করে রাখা। রান্না করার মতো শুকনো জায়গা নেই। বৃষ্টি থামলে মেয়েরা উঠানে পলিথিন বিছিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন।
দিল মোহাম্মদ আগে অটোরিকশা চালাতেন। পা হারানোর পর তিনি চলাচল করতে পারেন না। রোকেয়া বেগম মানুষের খেতখামারে কাজ করে দৈনিক ৫০০ টাকা আয় করেন। এই টাকায়ই মেয়েদের পড়ালেখার খরচসহ সংসার চলে। চলতি মাসে তিনি তেমন কাজ পাননি।
তাঁদের ছয় মেয়ের মধ্যে বড় দুজন বিয়ে করে আলাদা থাকেন। বাকি চার মেয়ের মধ্যে উম্মে হাবিবা স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়েন। উম্মে সালমা (৯) পঞ্চম শ্রেণিতে এবং জান্নাতুল মাওয়া (৬) নার্সারিতে পড়েন। সবার ছোট আঁখি আক্তারের বয়স চার বছর। পরিস্থিতি যেমনই হোক, তিন মেয়ে প্রতিদিন বই নিয়ে বসেন।
রোকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘জন্ম থেকে আমার এক চোখ নষ্ট। রোদে গেলে ভালো চোখেও ঝাপসা দেখি। তাতে আফসোস নেই। কিন্তু মা হয়ে ছোট মেয়েদের দুঃখকষ্ট সহ্য করতে পারি না। মেয়েরা পড়তে চায়। নিজ থেকেই পড়ে। আমি বইও কিনে দিতে পারি না। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়।’
স্বামী দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘পঙ্গু হয়ে ঘরের কোণে পড়ে থাকি। মেয়েরা পড়তে চায়; কিন্তু বাবা হিসেবে কিছুই করতে পারছি না।’
বন্যার পর গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঁচ কেজি চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজসহ নগদ পাঁচ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কিছু আর্থিক সহযোগিতাও পেয়েছেন। তবে এতে স্থায়ী বাসস্থান হচ্ছে না।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, পরিবারটির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতা, নিরাপদ বাসস্থান ও মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more