কেরানীগঞ্জ থেকে সাভার: ১১টি ঘটনায় যুক্ত একই উগ্রপন্থী গোষ্ঠী
Date: 2026-08-13
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ৬:১০ এ.এম
কেরানীগঞ্জ থেকে সাভার: ১১টি ঘটনায় যুক্ত একই উগ্রপন্থী গোষ্ঠী
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
রাজধানী ঢাকা, কেরানীগঞ্জ, সাভার, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অন্তত ১১টি উগ্রপন্থী ও বিস্ফোরক সংক্রান্ত ঘটনার পেছনে একই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের হাত রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তকারীরা। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নব্য জেএমবির সদস্যরা এসব ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং তারা দেশে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। সম্প্রতি ঢাকার সাভারের দুটি আলাদা স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের পর এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। গত বুধবার সাভারের সাধাপুর এলাকার একটি মসজিদের মাঠে ড্রামের ভেতর থেকে প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট। এর আগের রাতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার একটি তিনতলা বাড়িতে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট অভিযান চালিয়ে ১১টি পাইপ বোমাসহ বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার করে। এর আগে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে মোহাম্মদ আরিফ নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার কাছ থেকেও বোমা ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছিল এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই আস্তানার সন্ধান মেলে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে, এই নাশকতার নেটওয়ার্কটির সূত্রপাত হয়েছিল গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদের ‘আল কুরা’ মাদ্রাসায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে, যাতে ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে যায়। কেরানীগঞ্জের ওই ঘটনা থেকে উদ্ধার করা একটি মুঠোফোনের সূত্রের ধরে ১ ফেব্রুয়ারি যশোরের বাঘারপাড়ায় উগ্রপন্থী নেতা হাফিজ খালিদ ইব্রাহিমের গাড়িচালকের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। সেখানে মিলনে ১০টি শক্তিশালী গ্রেনেড, ৩টি পিস্তল, ১৯ রাউন্ড গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, ২১ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীতে পুলিশ চেকপোস্টে হামলা, ৭ মার্চ কুমিল্লার মন্দিরে বোমা হামলা, ১২ মার্চ ফেনীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিকে হত্যা, ২৫ মার্চ যাত্রাবাড়ীর জনপদ মোড়ে পাইপ বোমা বিস্ফোরণ, ২২ জুন উত্তরা দক্ষিণখানে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ওপর বোমা হামলা, ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর বোমা রাখা এবং ৩০ জুলাই আশুলিয়ার দোকানে প্রেশার কুকার বোমা ফেলে রাখার মতো ঘটনাগুলো একই সুতোয় গাথা।
সিটিটিসি ও অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) কর্মকর্তারা জানান, জনবহুল স্থানে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশেপাশে প্রেশার কুকার বোমা রেখে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর বড় পরিকল্পনা ছিল এই গোষ্ঠীর। তবে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার কারণে তাদের সেই বড় ছক বানচাল করা সম্ভব হয়েছে। সিটিটিসি প্রধান ও পুলিশের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ শামসুল হক জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সারাদেশ জুড়ে পুলিশি নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার রয়েছে। উগ্রপন্থীদের এই সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more