প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: মে ২৯, ২০২৬, ৩:৩৯ পি.এম
কোরবানির পশুর চামড়া যেন গলার কাঁটা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: কোরবানির পশুর
চামড়ার বাজারে আবারও দেখা দিয়েছে চরম মন্দা। সরকার নির্ধারিত মূল্য থাকলেও মাঠপর্যায়ে
সেই দামের কোনো প্রতিফলন নেই। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ী, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও কোরবানিদাতারা
পড়েছেন চরম বিপাকে। অনেক এলাকায় ক্রেতা না থাকায় চামড়া পড়ে নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। চামড়াপট্টি
ও বিভিন্ন অস্থায়ী সংগ্রহকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বড় আড়তদার ও পাইকারদের উপস্থিতি খুবই
কম। অধিকাংশ গুদাম বন্ধ থাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সংগ্রহ করা চামড়া বিক্রি করতে পারছেন
না। এতে মূলধন হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মৌসুমি ব্যবসায়ী
আজিজুল ইসলাম বলেন, গ্রাম থেকে ৪০০ টাকা দিয়ে একটি গরুর চামড়া কিনে বাজারে এনে ১৫০
টাকার বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে পরিবহন ও টোল খরচ যোগ হওয়ায় লোকসান আরও বাড়ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
এবার ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ
করলেও বাস্তবে সেই দামে কোনো লেনদেন হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের দাবি, মাঝারি আকারের গরুর
চামড়ার দাম যেখানে এক হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা, সেখানে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ থেকে
৩০০ টাকায়। ছাগলের চামড়ার অবস্থা আরও খারাপ, অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যেও নিতে চাইছেন
না ক্রেতারা। স্থানীয় মাদরাসা
ও এতিমখানাগুলোও এবার চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে। হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষক আব্দুর রহিম
জানান, মানুষ সওয়াবের আশায় চামড়া দান করলেও বিক্রির জন্য ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। যারা
আসছেন, তারা এত কম দাম বলছেন যে লবণ কেনার খরচও উঠছে না। চামড়া ব্যবসায়ীরা
বলছেন, ট্যানারি মালিকদের সরাসরি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় না থাকা, আগের বকেয়া অর্থ পরিশোধ
না করা এবং বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে প্রতি বছর একই সংকট তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি
লবণের বাড়তি দামও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। হাজীপাড়া চামড়াপট্টির
ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান জানান, ঈদের দিন তিনি প্রায় ১২০০ পিস চামড়া সংগ্রহ করেছেন।
বড় গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ১২০০ টাকায় বিক্রি হলেও অধিকাংশ মাঝারি ও ছোট চামড়ার দাম ছিল
১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। প্রবীণ ব্যবসায়ী
রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে চামড়া সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা
পুরোপুরি ট্যানারির ওপর নির্ভরশীল। অথচ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সহজে ঋণ সুবিধা পান না।
এতে চামড়া খাতের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্টরা
মনে করছেন, কার্যকর বাজার তদারকি, সরাসরি ট্যানারি পর্যায়ে চামড়া সংগ্রহ এবং ক্ষুদ্র
ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত না হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রপ্তানি খাত
আরও বড় সংকটে পড়তে পারে। তথ্য-জাগোবিডি বিডিফেস/মেহেদী
হাসান দ্বীপ
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more