দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা :
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লার দর্গা এলাকায় পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক
দখলের অভিযোগ তুলে থানায় অভিযোগ করেছিলেন কৃষক হুরমত আলী শেখ (৬৫)। তবে পরে প্রাণনাশের
আশঙ্কায় তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী হুরমত আলী শেখ উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের হলুদবাড়িয়া মাস্টারপাড়া
এলাকার বাসিন্দা। তার দাবি, হলুদবাড়িয়া মৌজার ১৩৮৯ দাগে আল্লারদর্গা থেকে জয়ভোগা কবরস্থানে
যাওয়ার রাস্তার পাশে ২২ শতাংশ জমির মধ্যে সাড়ে ৯ শতাংশ জমি তিনি পৈত্রিক সূত্রে পান।
দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি জমিটি ভোগদখলে রেখে সেখানে গাছপালা রোপণ, বাঁশঝাড় তৈরি
এবং চাষাবাদ করে আসছিলেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় হামিম (২২), রুবেল (৩৫) ও তাদের
স্বজনসহ ১০-১২ জন সংঘবদ্ধ হয়ে তার দখলকৃত জমির রাস্তা-সংলগ্ন অংশ জোরপূর্বক দখল করে
সেখানে বিক্রির সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়। বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং হাসপাতালে
চিকিৎসা নিতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের
প্রেক্ষিতে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুদ উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তবে
অভিযোগ করার পর থেকেই বিবাদীপক্ষ তাকে হত্যার হুমকি দেয় এবং বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের
চেষ্টা চালায় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। বিভিন্ন নম্বর থেকে মোবাইল ফোনে হুমকি ও মানসিক
চাপের মুখে পড়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের
অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ
উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাধারণ মানুষ
আতঙ্কে রয়েছেন। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি
আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে
তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য পাওয়া যায়নি।