অনলাইন ডেক্স:
গাছের ক্ষতি রোধে ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ,
২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গাছে পেরেক লাগানো বা অন্য কোনো
ধাতব বস্তু ব্যবহার করে ক্ষতি করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট
প্রকাশ করা হয়।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক উৎপাদন ছাড়া অন্য
কোনো উদ্দেশ্যে গাছে পেরেক বা ধাতব বস্তু ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে
আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দিতে পারবেন। বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন
ছাড়া গেজেটভুক্ত বন, অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন, সামাজিক বনসহ সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত
ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন গণপরিসরে থাকা কোনো গাছ কাটা বা অপসারণ করা যাবে না।
এ অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে প্রধান বন সংরক্ষক বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদের বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার
দায়িত্ব প্রদান করবেন। যেসব বৃক্ষ কর্তন নিষিদ্ধ হিসেবে তালিকাভুক্ত অথবা বন অধিদপ্তর
কর্তৃক বিপদাপন্ন ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো কোনো অবস্থাতেই কাটা যাবে না। তবে নির্দিষ্ট
শর্ত ও অনুমতি সাপেক্ষে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে থাকা কর্তনযোগ্য বৃক্ষ কাটা যাবে।
সেক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফরমে বৃক্ষের প্রজাতি, সংখ্যা, আনুমানিক উচ্চতা,
বুক সমান উচ্চতায় পরিধি এবং কর্তনের কারণ উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই ও
সরেজমিন পরিদর্শনের পর ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষ কেটে ফেললে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা আরোপের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণমূলক
বনায়নের নির্দেশ দিতে পারবেন আদালত। অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের বিধান লঙ্ঘন
করলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া গাছের ক্ষতিসাধনের
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।
তথ্য-বিডিপ্রতিদিন/এম ডিউক