বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা:
পটুয়াখালীর বাউফলে মদ খাওয়ার টাকা না দেওয়ায় এক
যুবককে কুপিয়ে যখম করছে সহপাঠীরা। বুধবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার সময় উপজেলার কনকদিয়া
বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। আহত প্রসেঞ্জিত উপজেলার কনকিদয়া ইউপির পালপাড়া গ্রামের পরিতোষ
পালের ছেলে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার উপজেলার কনকদিয়া
পালপাড়া গ্রামে জগদার্থী পূজার অনুষ্ঠান চলছিলো। ওই সময় চেয়ারের উপর উঠে নাচানাচি করে
স্থানীয় নিজাম গাজীর ছেলে ও কনকদিয়া স্যার সলিমুল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি ২য়
বর্ষের ছাত্র নাঈম সহ আরও অনেকে। ভাড়াকৃত চেয়ার ভেঙ্গে যাবে এ কারনে তাদের নিষেধ করে
পূজা আয়োজক কমিটির সাথে সহপাঠী প্রসেঞ্জিত পাল ও অপু পাল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা প্রসেঞ্জিত
পালের সাথে থাকা অপু পালকে মারধর করে। পরে বিষয়টি কনকদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি টিপু
মুন্সী মিমাংসা করে দিন। ঘটনার দুই দিন পরে প্রসেঞ্জিতের মা কৃষ্ণরানী পাল অসুস্থ্য
হয়ে পড়লে বুধবার সন্ধ্যা ৭টার সময় কনকদিয়া বাজারে ঔষধ কিনতে আসেন প্রসেঞ্জিত। ওই সময়
তার কাছে সহপাঠী নাঈম ও তার সাথে থাকা চার বন্ধু মদ খাওয়ার টাকা দাবী করে। প্রসেঞ্জিত
টাকা দিতে অস্বীকার করায় ব্যবসায়ী কালু কর্মকারের দোকানের সামনে চাইনিজ ছুড়ি (সুইজ
গিয়ার) ও লাঠি দিয়ে তাকে আগাত করে সহপাঠীরা। বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলে প্রসেনজিৎপালকে
উদ্ধার করে স্থানীয়রা বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। অবস্থা আশংকাজনক
হওয়ায় জরুরী বিভাগের চিকিৎস্যক প্রসেঞ্জিতকে উন্নত চিকিৎস্যার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
প্রসেঞ্জিতের স্বজনরা জানান, প্রসেঞ্জিতের মাথায়
দাড়ালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত রয়েছে। এখন পর্যন্ত জ্ঞান ফিরেনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাঈম বলেন, আমি ঘটনার সাথে জড়িত
না। আমাকে হয়রানী করার জন্য জড়ানো হচ্ছে।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, অভিযুক্তদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দোষিদের কোন ছাড় দেওয়া হবেনা।