অনলাইন ডেক্স:
মহাকাশ গবেষণায়
এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা (ঘঅঝঅ)। পৃথিবী থেকে ১২০ আলোকবর্ষ
দূরে অবস্থিত এইচডি ৬১০০৫ (ঐউ ৬১০০৫) নামক একটি তরুণ নক্ষত্রের চারপাশে বিশাল এক গ্যাসের
বুদবুদের স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করেছে সংস্থাটির চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি। বিজ্ঞানীরা
একে আমাদের সূর্যের শৈশব সংস্করণ হিসেবে অভিহিত করছেন।
নক্ষত্রটি তার
চারপাশ ঘিরে যে বিশাল গ্যাসের খোলস তৈরি করেছে, বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় অ্যাস্ট্রোস্ফিয়ার।
নক্ষত্রটির পৃষ্ঠ থেকে নির্গত অতি শক্তিশালী কণার ঝড় বা পার্টিকল উইন্ড চারপাশের গরম
গ্যাসকে ঠেলে দেয়, যার ফলে এই দানবীয় বুদবুদ তৈরি হয়। আমাদের সূর্যেরও এমন একটি খোলস
আছে যাকে বলা হয় হেলিওস্ফিয়ার, যা পৃথিবীকে ক্ষতিকর মহাজাগতিক রশ্মি থেকে রক্ষা করে।
জনস হপকিন্স
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী কেরি লিসে-র নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল
জার্নাল-এ প্রকাশিত হয়েছে। সূর্যের হেলিওস্ফিয়ারকে আমরা ভেতর থেকে দেখেছি, কিন্তু অন্য
নক্ষত্রের এমন খোলস বাইরে থেকে দেখার সুযোগ এই প্রথম। এইচডি ৬১০০৫-এর বয়স মাত্র ১০
কোটি বছর, যেখানে আমাদের সূর্যের বয়স প্রায় ৫০০ কোটি বছর। একে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে
সূর্য কোটি কোটি বছর আগে কতটা সক্রিয় ছিল, তা বোঝা সম্ভব হবে।
নাসার হাবল
স্পেস টেলিস্কোপের তথ্য অনুযায়ী, এই নক্ষত্রটির চারপাশের পদার্থ আমাদের সৌরজগতের তুলনায়
প্রায় এক হাজার গুণ বেশি ঘন। বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার কেবল একটি নক্ষত্র দেখা
নয়, বরং আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের আদি ইতিহাস এবং সূর্যের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের পাঠোদ্ধার
করা।
তথ্য-বিডিপ্রতিদিন
বিডিফেস/শিমু