নোয়াখালী সংবাদদাতা:
জেলা নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী
উপজেলায় নাজিম উদ্দিন (১৩) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার
(২৭ অক্টোবর) সকালে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আল মাদরাসাতুল ইসলামিয়া মাখযানুল
উলুম মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলার শয়নকক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের
সহপাঠী আবু সায়েদ (১৩)-কে আটক করেছে পুলিশ। নিহত নাজিম উদ্দিন সোনাইমুড়ী উপজেলার চাষিরহাট
ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জাহানাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা
যায়, দ্বিতীয় তলার ওই কক্ষে ১৪ জন শিক্ষার্থী একসঙ্গে থাকত। রাত ৩টার দিকে চিৎকার শুনে
কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক আবু রায়হান লাইট জ্বালিয়ে দেখতে পান-নাজিমের গলা কাটা
এবং তার পাশে রক্তমাখা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সহপাঠী আবু সায়েদ। পরে বিষয়টি মাদ্রাসার
প্রধান মাওলানা মাসুম বিল্লাহকে জানানো হলে তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার
ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে আটক করে।
স্থানীয়দের দাবি, ক্রিকেট
খেলা নিয়ে নাজিম ও আবু সায়েদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায়
নাজিমকে গলা কেটে হত্যা করে আবু সায়েদ।
মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা
মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি “পেরেশানিতে আছেন” বলে সংযোগ
বিচ্ছিন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার ফোন করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
সোনাইমুড়ী থানার পুলিশ
পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনির হোসেন বলেন, “আটক আবু সায়েদ বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছে।
নিহত নাজিম উদ্দিনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটির তদন্ত চলছে, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।”
হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু
তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।