পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পুলিশের গুলিতে ৬ বিক্ষোভকারী নিহত
Date: 2026-07-14
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৪, ২০২৬, ২:২০ পি.এম
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পুলিশের গুলিতে ৬ বিক্ষোভকারী নিহত
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফের চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীর (পিওকে)। মঙ্গলবার রাওয়ালকোটের নিউ বাস টার্মিনাল এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই ৬ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। গত ৯ জুন থেকে শুরু হওয়া নতুন দফার এই আন্দোলনে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারী সংগঠনগুলোর দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে।
পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরে জনঅসন্তোষ নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০২৩ এবং ২০২৫ সালেও বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে বড় ধরনের আন্দোলন হয়েছিল। 'জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি' নামের একটি অরাজনৈতিক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এবারের দফায় আন্দোলনকারীরা সরকারের কাছে ৩৮টি দাবি পেশ করেছেন। এর মধ্যে আটা-ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো, বিদ্যুৎ বিলে সরকারি ভর্তুকি প্রদান এবং ভিআইপিদের বিশেষ প্রটোকল সংস্কৃতি বাতিল করার মতো বিষয়গুলো রয়েছে। তবে আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠেয় কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের প্রধান দাবিটি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। কাশ্মীরের বাইরে অবস্থানরত কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবি তুলেছেন তারা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই আসনগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তান সরকার কাশ্মীরের ওপর অন্যায্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তান প্রশাসন তীব্র দমন-পীড়ন ও গণ-গ্রেপ্তার শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, আন্দোলন দমাতে অঞ্চলটিতে খাদ্য, জ্বালানি ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের প্রবেশ সীমিত বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট সেবা বিচ্ছিন্ন করে সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মুখে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে এবং সাধারণ মানুষের মুখ থেকে এখন স্বাধিকার বা ‘আজাদি’র স্লোগান উঠছে। চলমান এই মানবিক সংকটের মুখে আন্দোলনকারীরা মানুষের জীবন বাঁচাতে ভারতের প্রতি হস্তক্ষপের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পুঞ্চ ও ডোডা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) খুলে দিয়ে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর পথ তৈরি করার দাবি তুলেছেন তারা।
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চলমান এই সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, এই বিক্ষোভ মূলত পাকিস্তানের কয়েক দশক ধরে চালানো পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে রাখা এলাকায় প্রশাসনিক নিপীড়নের সরাসরি ফল। বেসামরিক মানুষের ওপর এই নির্মমতার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাকিস্তানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, কাশ্মীরের এই সংকট এখন আন্তর্জাতিক মহলেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসী কাশ্মীরিরা। তারা অবিলম্বে কাশ্মীরের বেসামরিক এলাকা থেকে পাকিস্তানি সেনা প্রত্যাহার এবং সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more