বিডিফেসে২৪ ডেক্স:
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন পার্বত্য
অঞ্চলে হাতি শিকারের নতুন ও ভয়াবহ দিক উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। শুধু দাঁতের
জন্য নয়, হাতির মাংস সংগ্রহের উদ্দেশ্যেও প্রাণীটি শিকার করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত প্রমাণ
পেয়েছেন গবেষকরা।
চলতি বছরের এপ্রিলে চার সদস্যের একটি
গবেষক দল সাঙ্গু-মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনে মাঠপর্যায়ের গবেষণা চালায়। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি
প্রেস থেকে ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত তাদের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২৫ এপ্রিল গভীর জঙ্গলে
একটি মাচায় হাতির মাংস শুকানোর প্রমাণ পান তারা।
মাচাটি ছিল প্রায় ৩৬ ফুট দীর্ঘ ও তিন
ফুট উঁচু। সেখানে হাতির শুকনো মাংস, হাড় ও চামড়া পাওয়া গেছে, যা আগুনে শুকানো হচ্ছিল।
গবেষকদের ধারণা, এটি একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে গবেষকরা বলেন, “এটা ছিল প্রথম
সরাসরি প্রমাণ যে পাহাড়ি এলাকায় হাতি শুধু দাঁতের জন্য নয়, মাংসের জন্যও শিকার হচ্ছে।”
স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন, সাম্প্রতিক
সময়ে এ ধরনের বেশ কয়েকটি শিকারের ঘটনা ঘটেছে। তবে কারা এসব শিকারে জড়িত—তা নিশ্চিত
করা যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় দেশের শিকারিরাই সীমান্ত
এলাকা ব্যবহার করছে এবং কাঁটাতারের অনুপস্থিতির কারণে সীমান্ত পেরিয়ে শিকার সহজ হয়েছে।
গবেষক দলের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পুরো
পথজুড়ে হাতির মল ও পায়ের ছাপ ছিল। স্থানীয়রা জানান, নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত মিয়ানমার
থেকে হাতির চলাচল নিয়মিত থাকে।