পটুয়াখালী সদর উপজেলার জৈনকাঠী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মিথ্যা ও কাল্পনিক মামলায় প্রতিপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে সালাম তালুকদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠে এসেছে যে, এই ঘটনার নেপথ্যে মূল ইন্ধনদাতা হিসেবে রয়েছেন হানিফ তালুকদার, আনোয়ার তালুকদার ও সেলিম তালুকদার গং। তারা পূর্বের একটি অপরাধ ধামাচাপা দিতে ও কাউন্টার মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই সাজানো মামলাটি (সি.আর মামলা নং- ১৮/২৬ ইং) দায়ের করেছেন। সালাম তালুকদার বাদী হয়ে মামলায় প্রতিপক্ষ রাসেল তালুকদার, ইমরান, সবুজ, দুলাল, পলাশ তালুকদার, আবুল তালুকদার ও ইমন সিকাদারকে আসামি করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭/০৪/২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৪:০০ টার সময় আসামিরা বাদীর ঘরে আগুন দেয় এবং ১ নং সাক্ষী হানিফ তালুকদারকে কুপিয়ে জখম করে। তবে স্থানীয় তদন্ত ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। ঘটনার দিন ১ নং সাক্ষী হানিফ তালুকদার ইতিমধ্যেই দুই দিন আগে থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি পলাশ তালুকদার ঘটনার সময় গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) চিকিৎসাধীন ছিলেন। আসামিদের মধ্যে পলাশের পিতা আবুল তালুকদার ও ভাতিজা ইমরান বরিশালে অবস্থান করছিলেন এবং বাকি আসামিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৫/০৪/২০২৬ ইং তারিখে কালিকাপুর ইউনিয়নে পলাশ তালুকদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে হানিফ তালুকদারসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে, যার ফলে তার পেটের ভুঁড়ি বের হয়ে যায়। এ ঘটনায় হানিফ ও সালাম তালুকদারকে আসামি করে একটি মামলা চলমান রয়েছে। সেই ঘটনার পরপরই হানিফ তালুকদার পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি হন। পলাশ মারা গেছেন এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে সালাম তালুকদার গং নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে একটি পরিত্যক্ত ঘরে আগুন দিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি ঘটনা সাজায়।
মামলায় যেসব মালামাল পুড়ে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে, তার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, ঘরের স্টিলের সুকেজ ১ মাস আগেই পাশের বাড়িতে বিক্রি করা হয়েছিল এবং বাকি মালামাল আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি মামলায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর কথা বলা হলেও, স্থানীয়রা জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কখনই সেখানে আসেনি এবং ওই রাস্তায় তাদের গাড়ি প্রবেশ করাও অসম্ভব। মামলায় উল্লিখিত অধিকাংশ সাক্ষীই বাদী ও ১ নং সাক্ষীর নিজস্ব পরিবারের সদস্য এবং ঘটনার সময় তারা সবাই পটুয়াখালী শহরের ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন পটুয়াখালী সদর থানার এসআই শহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তিনি কয়েকবার ঘটনাস্থল ও বরিশালে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য গিয়েছেন। তবে আহত পলাশ নিজে উপস্থিত না হলে মেডিকেল রিপোর্ট আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। পুলিশ সঠিক সময়ে আইন অনুযায়ী সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সালাম তালুকদার ও হানিফ তালুকদার গংয়ের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাজানো ও নাটকীয় এই মামলার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজ্ঞ আদালতের কাছে সঠিক বিচার ও মামলাবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more