প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ৪:৩৯ এ.এম
ভুল নকশায় আটকে ৪২ কোটির ৮ সেতু
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
নকশাগত বড় ভুল ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া নির্মাণের খেসারত দিতে হচ্ছে যশোরের তিন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষকে। জেলাটির সদর, মনিরামপুর ও শার্শা উপজেলায় ভৈরব নদ, বেতনা, মুক্তেশ্বরী ও শ্রী নদীর ওপর এলজিইডির নির্মিতব্য ৮টি সেতুর উচ্চতা বিধিমালার চেয়ে অনেক কম রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) গেজেট অনুযায়ী নদীর সর্বোচ্চ পানি থেকে গার্ডারের দূরত্ব অন্তত ১৫ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও এই সেতুগুলোতে ব্যবধান রাখা হয়েছে মাত্র ৬ থেকে ৮ ফুট। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪১ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এসব সেতুর ছাড়পত্র সংক্রান্ত বিআইডব্লিউটিএর নোটিশ উপেক্ষা করায় একপর্যায়ে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। ২০২৪ সালের মে মাসে হাইকোর্টের নির্দেশনার পর থেকে বিগত আড়াই বছর ধরে এই ৮টি সেতুর নির্মাণকাজ পুরোপুরি স্থগিত রয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি সেতুর কাজ ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত শেষ হয়ে গিয়েছিল।
আদালতের নির্দেশে কাজ বন্ধ থাকায় একদিকে প্রায় ৪২ কোটি টাকা সরকারি অর্থের ক্ষতি ও ঝুলন্ত মেয়াদের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ওই অঞ্চলের নৌপথের স্থায়িত্ব এবং স্থানীয় যোগাযোগের পথ দুটোই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে নকশা সংশোধন করে ক্রেন দিয়ে সেতুর পিলারের উচ্চতা বাড়িয়ে অবকাঠামো উদ্ধারের চিন্তা করছে এলজিইডি, যা বাস্তবায়নেও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন। এদিকে দীর্ঘ আড়াই বছর সেতুর কাজ থমকে থাকায় দুই পারের প্রায় ৩০-৪০টি গ্রামের কৃষক ও সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হচ্ছে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত অর্থ গচ্চা দিতে হচ্ছে। জনভোগান্তি নিরসন ও সম্পদের অপচয় রোধে স্থানীয় প্রশাসন, সংসদ সদস্য ও মামলাকারীদের মধ্যস্থতায় মামলাটি তুলে নিয়ে আইনি জটিলতা কাটানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more