প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ৪:৩১ এ.এম
সরাইলে মেঘনার করাল গ্রাস: বিলীন চার গ্রাম
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের চার গ্রাম—পালপাড়া, পানিশ্বর, শাখাইতি ও শোরবাড়ি। গত চার দশক ধরে চলমান এই নদীভাঙনে ইতিমধ্যে এলাকাগুলোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। গত এক দশকে এই ভাঙন আরও আশঙ্কাজনক রূপ নেওয়ায় ভিটেমাটি হারানোর তীব্র আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শতাধিক পরিবারের বাসিন্দারা। বিশেষ করে বিগত চার বছরে তিনটি গ্রামের প্রায় ২৯টি ধানের চাতাল বিলীন হয়ে যাওয়ায় কাজ হারিয়ে চরম জীবিকা সংকটে পড়েছেন সহস্রাধিক শ্রমিক। এর পাশাপাশি মসজিদ, মাজার, কবরস্থান ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমিও নদীগ্রাসে রূপ নিয়েছে। পালপাড়া গ্রামের প্রায় শতবর্ষী প্রবীণ ধীরেন্দ্র পাল আক্ষেপ করে জানান, পৈতৃক বিশাল বসতভিটা হারিয়ে এখন নামমাত্র জমিতে টিকে আছেন তিনি, আর গত চার দশকে প্রায় সাড়ে ৫০০ পরিবার ভিটেছাড়া হয়ে গ্রাম ছেড়েছে। নদীভাঙন রোধ করা না গেলে পানিশ্বর বাজার ও পানিশ্বর স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীর পেটে চলে যাওয়ার বড় ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভাঙন রোধে দীর্ঘ মেয়াদে কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তবে সাময়িক স্বস্তি দিতে ক্ষতিগ্রস্ত তীরে জরুরি ভিত্তিতে ১৯ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকাটি সুরক্ষায় স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জানান, তিনি ইতোমধ্যেই পানিসম্পদমন্ত্রীর কাছে আধা সরকারি পত্র পাঠিয়েছেন এবং স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আপাতত ৮৫ লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলছে। এছাড়া পালপাড়া থেকে শোরবাড়ি পর্যন্ত ১ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে ৬০ কোটি টাকার প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদন পেলে আগামী শুষ্ক মৌসুমেই দৃশ্যমান কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more