পটুয়াখালীতে ভূমি কর্মকর্তার হাতের করগুনে ঘুষ গ্রহণ

Date: 2025-09-25
news-banner
পটুয়াখালী সংবাদদাতা:
কখনও হাত পেতে, কখনও হাতের কর গুনে, আবার মুখে ঘুষের কথা বলে গ্রহণ করছেন ঘুষ। সেবা প্রার্থীরা মনে করেন, দেওয়া এবং নেওয়ার একটি বৈধ অফিস কিংবা ক্রেতা ক্রয় করে টাকা দিচ্ছেন আর তিনি রাখছেন ক্যাসবাক্সে। পটুয়াখালী বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রতিদিনকার চিত্র এটি। এখানে জমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজ করতে গেলে সেবাপ্রার্থীদের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দিলে বছরের পর বছর ঘুরেও কোনো কাজ সম্পন্ন হয় না।
lG5wLeY.jpeg
সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী মহাসিন পঞ্চায়েত অভিযোগ করেন, তিনি টানা তিন থেকে চার বছর ধরে তার জমির খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) দিতে পারেননি শুধুমাত্র স্থানীয় উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলামের অনিয়ম ও ঘুষ দাবির কারণে।

মহাসিন পঞ্চায়েত জানান, তার ১২৩ জেল ও ১৩৫৩ নং খতিয়ানের খাজনা পরিশোধ করতে গিয়ে তিনি বারবার কালাইয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুরেছেন। তিনি বাইরে থেকে অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করতে চেয়েও পারেন নি। কিন্তু অফিসে গিয়ে জমা দিতে গেলে কর্মকর্তারা বলেন, বাইরে থেকে দিলে হবে না, আমাদের এখান থেকে অনলাইন করতে হবে। দলিলের দাগ দিতে হবে, পর্চা দিতে হবে। এরপর জানানো হয়, প্রতি খতিয়ান ১,৫০০ টাকা করে দিতে হবে। মহসিন বলেন' "আমার চারটি খতিয়ান থাকায় মোট ৬,০০০ টাকা দিতে হবে। না দিলে কাজ হবে না।"
JxHthpT.jpeg
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমি অনেক অনুরোধ করেও শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ১,৫০০ টাকা দিই। টাকা দেওয়ার পরই তরিকুল ইসলাম আমার ফাইল অনুমোদন করেন। অথচ সরকারি খাজনা আমি আমার নিজস্ব নগদ একাউন্ট থেকে পরিশোধ করেছি। কেবল কাজটি এগিয়ে নিতে তাদের ঘুষ দিতে হয়েছে। এ সময়ের ভিডিও প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।”

এছাড়াও ২০২৪ সালে করা একটি দলিল নিয়েও তাকে হয়রানি করা হয়েছে।  তিনি বলেন- “আমি দলিল রেকর্ড মিটিশন শেষ করার পর খাজনা দিতে গেলে তরিকুল ইসলাম আমাকে জানান, দাখিলাটি ভুয়া এবং আমাকে ৩০-৩৫ বছরের খাজনা দিতে হবে। এতে আমার ওপর ৮ হাজার টাকার বেশি খাজনা ধার্য হয়। এ কারণে আমি এখনো খাজনা দিতে পারেননি।
M8Oq2RM.jpeg
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমি তার কাছ থেকে ১,৫০০ টাকা নিয়েছি। ওই টাকা দিয়ে আমি তার খাজনা পরিশোধ করেছি। আমি কারও কাছে ঘুষ দাবি করিনি। বাইরে থেকে লোকজন এনে কাজ করাতে হয় বলে কিছু বাড়তি টাকা নেওয়া হয়েছে।”

তবে মহাসিনের দাবি, “আমি আমার খাজনার সরকারি টাকা নিজেই নগদ একাউন্ট থেকে দিয়েছি। তারা কেবল ঘুষ নিয়েছে।”

কালাইয়া ইউনিয়নের একাধিক সাধারণ ভূমি সেবাগ্রহীতাও অভিযোগ করেন, এই অফিসে টাকা ছাড়া কোনো কাজই করা যায় না। “১০০ টাকার কাজ করতে গেলে ২ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়, নইলে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়।

বাউফল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)  বলেন, “এরকম তো হওয়ার কথা না, আমি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, ভূমি অফিসের দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের কারণে সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave Your Comments