প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ০৬, ২০২৬, ২:৩৩ পি.এম
প্রিপেইড মিটারের বাড়তি ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
জুন মাসের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ ও বিভ্রান্তির মুখে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তারা জানিয়েছে, এই বিষয়টি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নজরে রয়েছে এবং তিনি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দেশের সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, মূলত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ জুন মাস থেকে কার্যকর হওয়ার কারণেই বিলের এই তারতম্য ঘটেছে। নতুন ট্যারিফের ফলে আগের একই টাকার বিপরীতে এবার কম ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, যার কারণে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বিল অনেক বেশি মনে হচ্ছে। তবে লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আগের রেটই বহাল রাখা হয়েছে। বিলের এই চড়া দামের পেছনে শুধু নতুন ট্যারিফই নয়, বরং অতিরিক্ত গরম ও কয়েকটি বড় ইভেন্টকেও দায়ী করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। জুনের তীব্র তাপপ্রবাহ, কম বৃষ্টিপাত, পবিত্র ঈদুল আজহা, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ এবং এসএসসি পরীক্ষার কারণে বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের ব্যবহার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছিল। এর ফলে অনেক গ্রাহক তাদের নিয়মিত ব্যবহারের সীমা পার হয়ে উচ্চতর ট্যারিফ বা দামের স্লাবে পৌঁছে গেছেন, যা বিলের পরিমাণকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে অনেকের ধারণা ছিল মিটারের কারিগরি ত্রুটির কারণে বিল বেড়েছে, যা বিদ্যুৎ বিভাগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, একই মিটার ও একই প্রযুক্তিতে আগের মাসগুলোতেও সঠিকভাবে রিডিং নেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে যে দাপ্তরিক বা ক্লারিক্যাল ভুল হয়নি তা নয়, সেগুলো ইতিমধ্যে যাচাই করে সংশোধন করা হচ্ছে। গ্রাহকদের আরেকটি বড় আপত্তির জায়গা ছিল প্রিপেইড মিটারের ভাড়া। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ পরিষ্কার জানিয়েছে, যারা এককালীন টাকা দিয়ে প্রিপেইড মিটার নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে কোনো বাড়তি কিস্তি নেওয়া হচ্ছে না। আর যারা কিস্তিতে মিটার নিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল-ফেজ মিটারের জন্য মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজ মিটারের জন্য ২৫০ টাকা কাটা হচ্ছে। অবশ্য এই মিটার ভাড়ার বিষয়টি সরকার নতুন করে পর্যালোচনা করছে। ইতিমধ্যে বেশিরভাগ অভিযোগেরই নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং গ্রাহক হয়রানি বা দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সবশেষে, যেকোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে কান না দিয়ে বিল নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে গ্রাহকদের সরাসরি স্থানীয় গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more