প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ৩:৪২ এ.এম
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট, বৈশ্বিক অভিবাসন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ-সংঘাতের প্রভাবসহ নানা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরাপদে ও সসম্মানে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়াই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একমাত্র পথ।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে এর ফলে দেশটির জাতীয় সম্পদ, স্থানীয় পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং আশপাশের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ওপর প্রচণ্ড অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমারে, তাই এর টেকসই ও স্থায়ী সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত রয়েছে।
সংকট সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সফল করতে জাতিসংঘ এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও দৃঢ় ও কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু না হওয়া পর্যন্ত এই বিশাল মানবিক সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার এবং তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে উদ্ভূত পরিস্থিতি আরও জটিল ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।
ভাষণে বৈশ্বিক অভিবাসন প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত, নিরাপদ এবং সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিবাসীরা জন্মভূমি এবং গন্তব্যস্থল—উভয় দেশের অর্থনীতিতেই তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে তাদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাপী চলমান সংঘাত ও অর্থনৈতিক মন্দা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মানবসৃষ্ট বিভিন্ন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হচ্ছে এবং জ্বালানি সংকটসহ মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। যেকোনো বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক বিরোধের সমাধান কেবল আলোচনা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
অন্যান্য প্রাসঙ্গিক খবরের মধ্যে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সরকারি লক্ষ্যমাত্রার কথা জানা যায়। পাশাপাশি এআই ও সোশ্যাল মিডিয়ার সুষ্ঠু ব্যবহারে জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালার আহ্বান এবং আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে দেশের সব হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more