ইসলাম ডেক্স :
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ
(সা.) বলেছেন, ‘আমার পরে (শাসকগোষ্ঠী দ্বারা অবৈধভাবে) প্রাধান্য দেওয়ার কাজ হবে এবং
এমন অনেক কাজ হবে যেগুলোকে তোমরা মন্দ জানবে।’ তখন সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর
রাসুল! আপনি তখন আমাদের কী আদেশ দিচ্ছেন?” তিনি উত্তরে বলেন, “যে অধিকার আদায় করার
দায়িত্ব তোমাদের আছে, তা তোমরা আদায় করবে এবং তোমাদের যে অধিকার তা তোমরা আল্লাহর কাছে
চেয়ে নেবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৬০৩)।
এই হাদিসের ব্যাখ্যায় গবেষকরা বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে
সমাজ ও রাষ্ট্রে শাসক বা নেতৃত্বের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক নেককার ও ন্যায়পরায়ণ
শাসকের অধীনে একতাবদ্ধ না হলে সমাজ ও রাষ্ট্রের ইহকালীন এবং পরকালীন কল্যাণ সম্ভব নয়।
তারা আরও বলেন, যদি কোনো শাসক দ্বিনের ওপর অটল থাকেন,
তবে তাঁর আনুগত্য করা আবশ্যক। তবে মুসলিম শাসক মানেই তিনি সর্বদা অনুসরণীয় বা আদর্শ
হবেন—এমন নয়; কারণ শাসকদের বিচ্যুতির আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় বেশি।
ইসলামী দৃষ্টিতে, যদি কোনো শাসক পাপাচারে লিপ্ত
হন বা অন্যায় করেন, তবুও মুসলমানদের এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো উচিত নয়, যা রাষ্ট্রের
স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে। বরং রাষ্ট্রের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে শাসকদের
সংশোধনের প্রচেষ্টা চালানোই উত্তম পথ।
গবেষকরা আরও বলেন, শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তনের জন্য
আল্লাহর কাছে দোয়া করা মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আল্লাহর কাছে দোয়ার মাধ্যমে
উত্তম নেতৃত্বের আগমন কামনা করা ইসলামী পরামর্শ ও হাদিসের আলোকে প্রশংসনীয় কাজ।
(সূত্র: মাউসুয়াতুল হাদিসিয়্যা)