শেরপুরে ৪০০ বছরের ঘাগড়া মসজিদ

Date: 2026-02-25
news-banner

শেরপুর সংবাদাতা :

ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার ঘাগড়া লস্কর গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় চারশ বছরের প্রাচীন ঘাগড়া লস্কর খানবাড়ি জামে মসজিদ। ঘাগড়া লস্কর খানবাড়ি জামে মসজিদ নামেই পরিচিত এ ঐতিহাসিক স্থাপনাটি মুঘল আমলের স্থাপত্য ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

মসজিদের দরজায় কষ্টিপাথরে খোদাই করা আরবি শিলালিপি থেকে জানা যায়, এটি হিজরি ১০২৮ সনে, অর্থাৎ ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত। সে সময় ভারত উপমহাদেশে শাসন করছিলেন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর। স্থানীয় জনশ্রুতি ও স্থাপত্যরীতি বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হয়, আজিমোল্লাহ খান মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। কেউ কেউ মনে করেন, বক্সারের বিদ্রোহী হিরঙ্গী খানের সময়কালেও এর নির্মাণ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

চুন-সুরকি ও বিশেষ ইটে নির্মিত মসজিদটির দেয়াল প্রায় চার ফুট পুরু। বর্গাকৃতির এ স্থাপনার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ৩০ ফুট। একটি বড় আকৃতির গম্বুজ ও একটিমাত্র দরজা বিশিষ্ট এ মসজিদের ভেতরে ইমাম ছাড়া তিন কাতারে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। বাইরের বারান্দায় আরও ৬০ থেকে ৭০ জনের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

খান বংশের ওয়াকফ করা মোট ৫৮ শতাংশ জমির ওপর মসজিদটি অবস্থিত। এর মধ্যে মূল ভবন ও বারান্দা রয়েছে ১৭ শতাংশ জমিতে, আর বাকি ৪১ শতাংশজুড়ে রয়েছে কবরস্থান। বর্তমানে এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয় এবং পরিচালনার জন্য একটি কমিটিও রয়েছে।

ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও পর্যাপ্ত পরিচর্যার অভাবে মসজিদটির অবস্থা এখন কিছুটা নাজুক। ১৯৯৯ সালে এর সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

চার শতাব্দীর সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদ শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং শেরপুরের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এটি দেশের অন্যতম দর্শনীয় ঐতিহাসিক স্থাপনায় পরিণত হতে পারে।

Leave Your Comments