সংবিধানে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা
Date: 2026-07-09
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ০৯, ২০২৬, ৪:৫৪ এ.এম
সংবিধানে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর
মাধ্যমে বিলুপ্ত হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান অবৈধ ঘোষণা করে
হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে দেশের সংবিধানে
আবারো অদলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং গণভোট (রেফারেন্ডাম) ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলো
বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে
চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে
বলেন, গণতন্ত্র আমাদের সংবিধানের একটি মৌলিক কাঠামো। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের
মাধ্যমেই কেবল এই গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া বিগত তিনটি
সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি, যা পরবর্তীকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের
জন্ম দিয়েছে। তাই জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংবিধানে যুক্ত হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার
ব্যবস্থাটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোরই একটি অংশ।
তবে আপিল বিভাগ পঞ্চদশ
সংশোধনী আইনটি পুরোপুরি বাতিল করেননি। এই সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ (যা তত্ত্বাবধায়ক
সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করেছিল) এবং ৪৭ ধারা (যা গণভোটের বিধান বাতিল করেছিল) সংবিধানের
সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সংবিধানের ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২)
অনুচ্ছেদও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
একই সাথে, সংবিধানের
এই সংশোধনীর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া জাতির পিতার স্বীকৃতি এবং ২৬ মার্চের স্বাধীনতার
ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আদালতে বহাল রাখা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, আগামী দিনের
নির্বাচিত জাতীয় সংসদ চাইলে আইন অনুযায়ী জনগণের মতামত নিয়ে এসব বিধানের প্রয়োজনীয় পরিমার্জন
বা সংশোধন করতে পারবে।
২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক
সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ‘সুজন’ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ বিশিষ্টজনদের
একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এই বিলুপ্তি অবৈধ ঘোষণা
করেন। পরবর্তীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এই মামলায় পক্ষভুক্ত হন।
আজ আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায়
এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এলো।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more